বড় সরদার বাড়িতে শুটিং

সোনারগাঁও জাদুঘর ঘিরে নানা অনিয়মের তদন্তের দাবি

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি। দীর্ঘ পুনরুদ্ধার শেষে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংরক্ষণ করা এ স্থাপনাতেই হয়েছে বাণিজ্যিক শুটিং। শুটিংয়ে ভারী সরঞ্জাম ব্যবহারে ভবনটির ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। একই সঙ্গে কারুপল্লীতে প্রকৃত কারুশিল্পীদের বঞ্চনা, দোকান বরাদ্দ, নির্মাণকাজ, অনুষ্ঠান আয়োজন ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ সামনে আনে 'সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি'। পরে স্থানীয় সংগঠন 'সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গন' এবং সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের সোনারগাঁ শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বড় সরদার বাড়িতে 'কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪'-এর শুটিং। সংরক্ষণ কমিটির দাবি, টানা চার দিন সেখানে উচ্চক্ষমতার জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা, ক্যামেরা ক্রেন, ট্রলি, সাউন্ড সিস্টেম ও শক্তিশালী আলোকসজ্জার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। প্রায় দুই শতাধিক কলাকুশলীও সেখানে কাজ করেছেন বলে দাবি তাদের।

কমিটির অভিযোগ, ৯৬ ঘণ্টার জন্য বড় সরদার বাড়ি ছয় লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। শুটিংয়ের আগে ভবনটির পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক ও স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ ভারী সরঞ্জাম দেখে ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে শুটিং না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপরও শুটিং হয়েছে বলে দাবি কমিটির।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি। ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম শুটিংয়ে বড় সরদার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রচলিত নীতিমালা মেনেই শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে কারুপল্লীতে প্রকৃত কারুশিল্পীদের বঞ্চনার অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক প্রকৃত কারিগরের দোকান ভেতরের ও পেছনের দিকে হওয়ায় তারা ক্রেতা পাচ্ছেন না। দৃশ্যমান কয়েকটি দোকানে কারুশিল্পী নন— এমন ব্যবসায়ীদের থাকার অভিযোগও রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নির্দেশনাচিহ্ন ও প্রচারের অভাবেও কারিগরদের বিক্রি কমছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি দোকান বরাদ্দ, নির্মাণ ও মেরামত, শ্রমিক বিল, অনুষ্ঠান, স্মারকগ্রন্থ, কাঁচামাল কেনা এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনগুলো।

তাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, তদন্তযোগ্য বিষয় হিসেবে দেখা উচিত। এজন্য বড় সরদার বাড়ির পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা, শুটিংয়ের অনুমোদন ও আর্থিক নথি প্রকাশ, দোকান বরাদ্দের তালিকা ও রসিদ যাচাই এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ কায়েস বলেন, কয়েক শতাব্দীর পুরোনো স্থাপনার ক্ষতি হলে অর্থ ব্যয় করেও সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই অভিযোগ ও অস্বীকারের বদলে স্বাধীন তদন্ত, আর্থিক নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।