লাইসেন্সবিহীন ২২ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার নির্দেশ
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করা ২২টি লাইসেন্সবিহীন অনলাইন পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করতে এবং কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে সর্বসাধারণকে সতর্ক করে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি পেমেন্ট সেবা প্রদান করলে তা 'পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪' অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শনাক্ত করা লাইসেন্সবিহীন ২২টি অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হলো— বহুদুরপে (বহুদুরপে), জিনিপে, পেটিলার, বেঙ্গলিপে, পেওরা বিডি, সহজপে বিডি, ইজিপেওয়ে, একে পে, বিডি পে, সাজগারপে, আস্থাপের বা সিপে, উদ্যোক্তাপের, ওয়ালেটমিক্স, বিটিটিপে, ইজি পে অটোমেশন, ইউনিকপে বিডি, বিডি অটো পে, আরএইচ পে বিডি, ইজিপে, অটোপে লিমিটেড, বিশ্বস্ত ও পিপ্রাপের।
কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনি ঝুঁকি এড়াতে এসব লাইসেন্সবিহীন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম পরিচালনা না করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের লেনদেন থেকেও বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
অনুমোদনহীন ২২ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন, স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত ২২টি অনলাইন পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর শনাক্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে তাদের ওয়েবসাইট ও গুগল প্লে স্টোরের অ্যাপ সরিয়ে নেওয়া এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক রোববার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা— বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকেও (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি ও তালিকার অনুলিপি পেয়েছে।
লাইসেন্সবিহীন ২২টি প্রতিষ্ঠান হলো— বহুদূর পে, জিনিপে, পে-টিলার, বেঙলি পে , পেওরা বিডি, সহজপে বিডি, ইজিপে ওয়ে, একে পে, বিডি পে, সাজঘর পে, আস্থা পে, উদ্যোক্তাপে, ওয়ালেটমিক্স, বিটিটি পে, ইজিপে অটোমেশন, ইউনিকপে বিডি, বিডি অটো পে, আরএইচ পে বিডি, ইজি পে, অটো পে লিমিটেড, বিশ্বস্ত এবং পিপড়াপে। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্তত ১৯টির ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে টিবিএস দেখেছে, তারা বিকাশ, নগদ, রকেট, বাংলা কিউআর এবং বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ প্রদান করে আসছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, 'অননুমোদিত এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো ব্যবহারকারী প্রতারণার শিকার হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তার দায় না নেয়। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক বিটিআরসিকে এসব ২২টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ এবং গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছে।'
পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর এমন একটি প্রতিষ্ঠান— যা ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের, একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ দেয়। এর ফলে ব্যবসায়ীদের প্রতিটি ব্যাংক বা পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে আলাদাভাবে প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হয় না।
উদাহরণস্বরূপ, একটি অনলাইন পোশাকের দোকান যদি ভিসা-মাস্টারকার্ড, বিকাশ, নগদ, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ করতে চায়, তাহলে প্রতিটি সেবাদাতার সঙ্গে আলাদাভাবে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে একটি পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। আর এ ধরনের পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয়।
সুতরাং, কোনো অননুমোদিত পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর পরিচালিত হলে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের পেমেন্ট গ্রহণ ও ব্যবসায়ীদের অর্থ পরিশোধের কাজ করে; কিন্তু লাইসেন্সধারী পেমেন্ট অপারেটরদের ওপর যে নিয়ন্ত্রক সুরক্ষা, নজরদারি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেগুলো তাদের ক্ষেত্রে থাকে না।
কোনো অ্যাগ্রিগেটর যদি নিজস্ব অ্যাকাউন্টে অর্থ গ্রহণ করে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব, প্রতারণা, অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়া বা পরিচালনাগত সমস্যায় পড়লে— সেই অর্থ আটকে যেতে বা অন্যত্র চলে যেতে পারে।
