গাজী নজরুল জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে : বিচারক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন অল্পবয়সী ছিলেন। গাজী নজরুল ইসলামের হেফাজতে থাকাবস্থায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। বিভিন্ন চিঠিতে নোট লিখে গেছেন। এ ছাড়া আপস অযোগ্য ধারার মামলায় আপসনামা দেওয়া হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। এ অবস্থায় আসামি জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিচারক।

গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম গাজী নজরুল ইসলামের জামিন শুনানি শেষে এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আদালতে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মিজানুর রহমান ও মাহাবুবুর রহমান আপসের শর্তে জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি করেন।

মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানের পক্ষেও জামিনের আবেদন করা হয়। তবে তার আইনজীবী আদালতে উপস্থিত না থাকায় ওই আবেদনের শুনানি হয়নি।

শুনানিতে আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, আপসের শর্তে নজরুল ইসলামের জামিন প্রার্থনা করছি। বাদী আদালতে উপস্থিত আছেন।

এ সময় বিচারক মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর কাছে আপস করেছেন কি-না জানতে চান। মাসুম বিল্লাহ সম্মতি জানালে বিচারক ভুক্তভোগী কে হন জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, 'মেয়ে।'

নজরুল ইসলামের আইনজীবী বলেন, বাদী আসামির আত্মীয়। তাদের মধ্যে আপস হয়েছে। আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন। আসামির জামিনে বাদীর আপত্তি নেই।

জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, এটি দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার মামলা। এ ধরনের মামলায় আপস আইনসঙ্গত নয়। বাদী শুধু সংবাদদাতা। মামলার তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

তিনি আরও বলেন, মরিয়মের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা, তা তদন্তের বিষয়। মামলা করে বাদী জামিনে আপত্তি নেই বলতে পারেন না। প্রয়োজনে বাদীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।

জবাবে নজরুল ইসলামের আইনজীবী বলেন, মামলার বিষয়ে নয়, আমরা শুধু জামিনের ক্ষেত্রে আপস করেছি। আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক বলেন, ভুক্তভোগী অল্পবয়সী মেয়ে। বিভিন্ন চিঠিতে নোট লিখে গেছেন। আসামির হেফাজতে থাকাবস্থায় ভুক্তভোগী আত্মহত্যা করেছেন।

বিচারক আরও বলেন, আসামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসবাসরত অবস্থায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে। আপস অযোগ্য ধারার মামলায় আপসনামা দেওয়া হয়েছে। বয়স্ক এই কারণে আসামি জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সমাজে ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা হতে পারে। মামলা তদন্তাধীন, হাজতবাসও বেশি নয়। এ পর্যায়ে জামিন নামঞ্জুর করা হলো।

আদালত থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক রাখতে আপস করা হয়েছে। কোনো চাপাচাপিতে নয়। ন্যায়বিচার অবশ্যই চাই। ওবায়দুরকে মূল আসামি করা দরকার ছিল।