রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) আরও একটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

শনিবার সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে ইউরেনিয়াম বহনকারী তিনটি বিশেষায়িত লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে বলে প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এসব পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট চারটি জ্বালানির চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাল। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত বা রি-ফুয়েলিংয়ের দুটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের দুটি চালান রয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন 'রোসাটম'-এর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট নয়টি চালানে রূপপুরের দুই ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের রি-ফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আসার কথা রয়েছে।

রাশিয়ার অত্যাধুনিক ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিতে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে এর মধ্যে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ 'পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি' কার্যক্রমের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এ অনুমোদন প্রদান করে।

'স্টেজ-সি' পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর এবং সার্বিক পরিচালনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে।

এসব কারিগরি পরীক্ষা সফল হলে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর যুক্ত (সিনক্রোনাইজেশন) করা হবে।

সবকিছু পরিকল্পনা ও বায়েরার নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ মূলত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে দুই দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আর্থিক ও বৈশ্বিক কারণে প্রকল্পের ব্যয় সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িযেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।