স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা ঘোষণা

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, রোগনির্ণয় সুবিধার আধুনিকায়ন ও ক্যান্সার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। আমূল পরিবর্তনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার, যা জাতীয় বাজেটের মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, '১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা একটি ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছি। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর পর্যাপ্ত সংস্কার হয়নি।' তিনি আরও বলেন, এ কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি এক বা দু'টি প্রকল্পের বিষয় নয়, একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে।

উপজেলা হাসপাতালের ব্যাপক উন্নয়ন : জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়ন এবং সেখানে বিশেষায়িত ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার ৪৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করেছে।

২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর আওতায় ১৮টি হাসপাতালকে ৫১ শয্যায়, ৩০৫টি হাসপাতালকে ১০১ শয্যায়, ৮৩টি হাসপাতালকে ১৩২ শয্যায়, ১৩টি হাসপাতালকে ১২০ শয্যায়, ৯টি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় এবং আরও ১৫টি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ৪৪৩টি উপজেলায় সমন্বিত বহুতল সেবাভবন নির্মাণ এবং ১৫টি উপজেলায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য আবাসন সুবিধা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ড. মুহিত বলেন, 'জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকার বিদ্যমান ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আর পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে কিছু উপজেলা ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।'

এ সময় তিনি আরও বলেন, এ কারণে সরকার দেশের সবমিলিয়ে ৫০৩টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের একটি 'ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত' নিয়েছে।

উন্নীত এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিবিড় পরিচর্যা ও করোনারি কেয়ার, ওয়ান-স্টপ জরুরি সেবা, মেডিসিন, সার্জারি, নাক-কান-গলা, চক্ষু, শিশু, মাতৃস্বাস্থ্য, কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার স্ক্রিনিং এবং ফিজিওথেরাপি সেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্ট্রোক ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জন্য সেবার পাশাপাশি প্যাথলজিক্যাল ও অন্যান্য রোগনির্ণয় সুবিধাও থাকবে।

সরকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৪ হাজার ৬৩৪টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হাব এবং ১ হাজার ৬৩১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত এ প্রকল্পটিও বর্তমানে চূড়ান্তকরণের পর্যায়ে রয়েছে। এর আওতায় হাবের জন্য ৫ হাজার ৯৩৬টি স্থাপনা পুননির্মাণ, ৮ হাজার ৩৪৮টি স্থাপনা মেরামত বা পুনর্বিন্যাস এবং ৩৫০টি নতুন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।