ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কাল যুব মহাসমাবেশ

নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় যুবলীগ

নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় যুবলীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক সোহরাওয়াদী উদ্যনে আগামীকাল স্মরণকালের যুব মহাসমাবেশ করবে সংগঠনটি। ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটিয়ে নয়া ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে যুবলীগ। যুব মহাসমাবেশ সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। যুব সমাবেশকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট, সহযোগী ও ভ্রাতিপ্রতিম সংগঠনের র্শীষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও সেরেছে যুবলীগ। যুব মহাসমাবেশের মধ্যদিয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করছেন যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও। যুবলীগের সুবর্ণ জয়ন্তীর আয়োজন ঘিরে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে রাজধানী ঢাকায়। যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।

যুব সমাবেশকে সফল করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও যৌথসভা করেছে যুবলীগ। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সারা দেশে জেলা, থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের সমাবেশকে শতভাগ সফল করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগ নেতাকর্মীদের জন্য টি-শার্ট ও লাল-সবুজ রঙের ক্যাপ পরিধানের জন্য নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভাগ অনুযায়ী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট ও ক্যাপ পরিধান করে সমাবেশে উপস্থিত হবেন।

যুবলীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সংগঠনের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে নগরজুড়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে। সুবর্ণ জয়ন্তীতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় যুব মহাসমাবেশ করার জন্য যা যা করার দারকার, তাই করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা সেরেছে। মহানগর নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই যুবলীগ কার্যালয়ে ভিড় করছেন।

যুবলীগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণ জয়ন্তী ও যুবসমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতা, যুবলীগের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া সংসদের বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের যুব সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, যুব সমাবেশের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার আদলে। মঞ্চের পেছনে ব্যানারে থাকবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবির সঙ্গে পদ্মা সেতু মেগাপ্রকল্পর ছবিও। আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান পবন বলেন, যুবলীগের নির্দেশনা মোতাবেক মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে দলের প্রতীক নৌকার আদলে।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুব সমাবেশ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় থাকবে সমাবেশের আশপাশের এলাকা। কেউ যদি কোনো বিশৃঙ্খলা করে, তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্বে থাকবেন। বিশাল এ জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। আর তাই মহাসমাবেশে যেন কোনো ধরনের নাশকতা না ঘটে, সেজন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে বলে জানা গেছে।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণ জয়ন্তী নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, যে মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমরা যুবলীগের নেতাকর্মীরা আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা নিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি, সেই মুহূর্তে বাংলাদেশ বিরোধী বিএনপি-জামায়াত স্থিতিশীল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করছে। ‘চারিদিকে নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস’। আমরা বিশ্বাস করি, এই মহাসমাবেশের মধ্যদিয়ে রচিত হবে স্বাধীনতাবিরোধীদের জন্য ইস্পাত কঠিন ভিত্তি, যা বিএনপি-জামাতের কাছে অজেয়, দুর্লঙ্ঘনীয়। আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত যদি দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাহলে রাজপথেই তাদের সমুচিত জবাব দিবে যুবলীগ। ১১ নভেম্বরের যুব মহাসমাবেশের পর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আর মাথাচাড়া দিতে সক্ষম হবে না।

সমাবেশস্থলে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে- জানিয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, সমাবেশ সফল করতে ১০টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য পাঁচটি গেট রাখা হবে। এ সমাবেশ হবে তারুণ্য, সাহসের ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত সৃষ্ট দুঃসহ দিনগুলোর কথা নিশ্চয়ই জনগণ ভুলে যায়নি। ওই সময় ৯২ দিনের অবরোধ, দেড় শতাধিক মানুষকে পুড়িয়ে মারা, ৫৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিয়ে গোটা দেশকেই বার্ন ইউনিটে পরিণত করেছিল তারা। আজকের বাংলাদেশ বিএনপি-জামায়াতের সেই লেলিহান শিখায় পুড়তে চায় না।

তিনি বলেন, করোনা-পরবর্তী দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ নভেম্বর সরাসরি রাজনৈতিক কোনো জনসভায় উপস্থিত হচ্ছেন। সেটি যুবলীগের মহাসমাবেশ। এজন্য যুবলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা গর্বিত, উচ্ছ্বসিত ও উজ্জীবিত। মহাসমাবেশ যুবলীগের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে হলেও এই সমাবেশের অন্তর্নিহিত মর্ম স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, প্রতিরোধ গড়ে তোলা তথা বাংলাদেশকে রক্ষা করা। যুব মহাসমাবেশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সম্মেলনে পরিণত হবে।

সমাবেশস্থলে প্রবেশের গেট ও রুট নির্ধারণ : যুব মহাসমাবেশে যে রুট ধরে আসতে হবে তা নির্ধারণ করেছে যুবলীগ। সারা দেশ থেকে তাদের নেতাকর্মীরা কোন গেট ও রুট দিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবে- তার বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি বলেন, ভিআইপি গেট বাদে সমাবেশে প্রবেশের গেট থাকবে পাঁচটি। এগুলো হলো- টিএসসির রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন গেট, মেট্রোরেল স্টেশন গেট, রমনা কালী মন্দির গেট, মেট্রোরেল গেট-১ (মাজার গেটের পরের গেট) এবং মাজার গেট। সমাবেশে প্রবেশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে- সবুজ কার্ডধারী অতিথিরা ৩ নম্বর গেট (রমনা কালী মন্দির গেট) দিয়ে প্রবেশ করবেন।

রংপুর বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও ঢাকা মহানগর উত্তর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা জেলা উত্তরের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন ১ ও ২ নম্বর গেট দিয়ে।

বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ, সিলেট বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, ঢাকা জেলা দক্ষিণ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গেট দিয়ে।

যুবলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৃহত্তর ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগ থেকে যারা পদ্মা সেতু হয়ে মহাসমাবেশে আসবেন, তারা হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে না এসে বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে আসবেন। কারণ, সিলেট বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, বৃহত্তর ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের নেতাকর্মী একই সঙ্গে হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহার করলে টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইন পড়ে যেতে পারে। সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা মোতাবেক ভিআইপি গেট, অর্থাৎ শিখা চিরন্তনী গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন।

বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি আসার রুট : চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার, পলাশী হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল বিভাগ (যারা বাসে আসবেন) পদ্মা সেতু হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে গুলিস্তান, নগর ভবনের সামনের রাস্তা, বঙ্গবাজার সংলগ্ন রাস্তাসমূহ এবং জিরো পয়েন্ট ওসমানী উদ্যান সংলগ্ন এলাকা।

ময়মনসিংহ বিভাগ মহাখালী, মগবাজার ফ্লাইওভার, কাকরাইল চার্চের বামে মোড় সংলগ্ন রাস্তা হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ গাবতলী, মিরপুর রোড, সায়েন্সল্যাব ক্রসিং, নিউমার্কেট ক্রসিং, বামে মোড়; অথবা গাবতলী, মিরপুর রোড সায়েন্সল্যাব ক্রসিং বামে মোড়, কাঁটাবন ক্রসিং ডানে মোড়, নীলক্ষেত ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত