ঢাকা ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

এইচএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহ

দুই কেন্দ্রপ্রধানকে অব্যাহতি ১১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

দুই কেন্দ্রপ্রধানকে অব্যাহতি ১১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের দায়ে একটি কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনসহ দুই কেন্দ্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নকল করার দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ১১ পরীক্ষার্থীকে। এর মধ্যে একজনকে সাত দিনের জেল দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিন্দপুর ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শতভাগ পাস নিশ্চিত করতে শিক্ষকের মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনায় রুস্তম আলী কলেজ এবং নিন্দপুর ড. মহিউদ্দিন খান স্কুল ও কলেজকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। এছাড়া বোর্ড থেকে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি পাঠান। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মন্ত্রণালয়কে জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা সংক্রান্ত শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ‘ফোন দেখে লিখছেন পরীক্ষার্থীরা, পাশে দাঁড়িয়ে কক্ষ পরিদর্শক’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মনসুর নগর ইউনিয়নের এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ১১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা স্মার্ট ফোন দেখে লিখছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কক্ষ পরিদর্শক। মাত্র দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে এভাবেই এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এই কেন্দ্রের প্রায় ১ হাজার পরীক্ষার্থী। কেন্দ্র কমিটিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কব্জায় নিয়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য এমন বন্দোবস্ত করেছে একটি চক্র। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখা মিলিয়ে অন্তত ৯টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এই কারবার চালাচ্ছে চক্রটি। অভিযোগে বলা হয়, কাজীপুর উপজেলার দুর্গম এক জনপদ মনসুর নগর ইউনিয়ন। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকের জন্য একটি মাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ। তার পাশেই এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়টিই এই অঞ্চলের এইচএসসি পরীক্ষার একমাত্র কেন্দ্র, যা করা হয়েছে ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের জন্য। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় উপজেলা সদর থেকে এই কেন্দ্রে সড়ক ও নৌপথে পৌঁছাতে সময় লাগে চার থেকে ছয় ঘণ্টা। এ কারণে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস থেকে কেউ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান না বললেই চলে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রটিকে ঘিরে গত ছয় বছর ধরে যেন চলছে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে নকল বাণিজ্যের উৎসব! বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখা মিলিয়ে অন্তত ৯টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এই কারবার চালাচ্ছে চক্রটি। গ্রুপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘মিশন এ প্লাস’ ও ‘রাসেলস ভাইপার’। গ্রুপ দুটিতে বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী যুক্ত আছে। যারা সবাই একই কলেজ ও কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। এই অভিযোগের পর সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসককে উল্লেখিত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত