আসামিকে নির্যাতনের মামলায় ওসি আমিনুল কারাগারে

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আসামি মোরশেদ মঞ্জুরকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের মামলায় টাঙ্গাইলের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের গাড়ির চুরির মামলার আসামি মোরশেদ। ঘটনার সময় আমিনুল ইসলাম ঢাকার গুলশান থানায় সাবেক ওসি (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত বুধবার টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। মির্জাপুর থানার এসআই রমিজ রায়হান তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আমিনুল ইসলামের পক্ষে আমিনুল গণি টিটো জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে বলেন তিনি বলেন, গুলশান থানার এসআই হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন মোরশেদ মঞ্জুর। অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়। পিবিআই’র প্রতিবেদনে তার (আমিনুল ইসলাম) নাম আসে। অভিযোগ, ভিকটিমকে তার রুমে নিয়ে আসা হয়। রুমে এনে মারধর করা হয়—এমন অভিযোগ কিন্তু নাই। পরবর্তী সময়ে কিন্তু তাকে (ভিকটিম) ওসি মাজহারুল ইসলামের রুমেও নেওয়া হয়। থানার এসি, ওসির বিরুদ্ধে প্রতিবেদনে একটা শব্দও নাই। অভিযোগ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। যে কোনও শর্তে তার জামিনের প্রার্থনা করছি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সর্বোচ্চ সাজা দুই বছরের। জামিনের প্রার্থনা করছি।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, এ আসামি জামিন পেলে মামলায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো।

মোরশেদ মঞ্জুর নামে ওই ব্যক্তি গত বছরের ২৭ জুন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে গুলশান থানার এসআই হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলায় ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে অভিযোগ আনা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। গত ১০ মে আমিনুল ইসলাম এবং হাফিজুর রহমানকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন। ওই প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তী সময়ে হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গতকাল আমিনুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মোরশেদ মঞ্জুর ঢাকা ও চট্টগ্রামে তার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। পূর্ব পরিচিত বিদিশা সিদ্দিকার কাছ থেকে তিনি একটি জাগুয়ার প্রাইভেট কার ৩৯ লাখ টাকায় কেনেন। গাড়ির টাকাসহ নাম পরিবর্তন বাবদ আরও ১ লাখ ৯৫ হাজার পরিশোধ করেন। কিন্তু বিদিশা সিদ্দিকা মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একটি মামলা করেন।

সেই মামলায় গত বছরের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করে গুলশান থানায় নিয়ে আসে। সেখানে গাড়ি উদ্ধারের নামে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাফিজুর রহমান গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে মানসিকভাবে নির্যাতনসহ শারীরিকভাবে কিল, ঘুসি এবং লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ক্রসফায়ারে হত্যা করার হুমকি দেন। অভিযোগে তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতনের সময় ছবি ধারণ করে বিভিন্নজনের কাছে পাঠান। মারধরের কথা আর কাউকে না বলতে হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে কালো রংয়ের একটি ইলেকট্রিক মেশিনের মাধ্যমে শক দিলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে দৈনন্দিন তিনি স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।