সুসংবাদ প্রতিদিন
করলা চাষে লাভবান কৃষক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা)

চান্দিনার দোবাড়িয়া মাঠের বুকজুড়ে এখন শুধু সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ এই ফসলি জমিতে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে করলা। ভোরের আলো ফুটতেই সেই মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা শুরু হয়। কেউ করলা তুলছেন, কেউ সেগুলোকে বস্তাবন্দি করছেন বাজারে পাঠানোর জন্য। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এই জনপদে করলার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি ফুটেছে। বিশেষ করে দোবাড়িয়া মাঠের কৃষক জহিরুল ইসলামের সাফল্য এখন এলাকার অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জহিরুল ইসলাম তার ৪২ শতক জমিতে করলার চাষ করেছেন। এ বছর তিনি বপন করেছেন ‘কুইশারা’ জাতের করলা, যা ফলন ও গুণমানের দিক থেকে বেশ উন্নত। রোপণ থেকে শুরু করে পরিচর্যা পর্যন্ত জহিরুলের এ পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। শুরুর দিকে আবহাওয়া এবং বাজারের অনিশ্চয়তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকলেও, ফলন আসার পর সেই ভয় কেটে গেছে। কুইশারা জাতের করলা আকারে যেমন পুষ্ট, স্বাদেও তেমনি অনন্য হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা আকাশচুম্বী। জহিরুল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি ১০ থেকে ১৫ দিন অন্তর করলা সংগ্রহ করছেন।
প্রতিবার জমি থেকে ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বাজার দর নিয়ে জহিরুলের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি করলা পাইকারি দরে বিক্রি করছেন ৪০-৪৫ টাকায়। এই দরে বিক্রি চালিয়ে যেতে পারলে খরচের তুলনায় বড় অংকের লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশাবাদী। তার এই সাফল্য শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেনি, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। জহিরুলের এই উৎপাদিত করলা কেবল স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং এর বিশাল একটি অংশ চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং নিমসারের মতো বড় পাইকারি বাজারগুলোতে। ভোরের দিকে দোবাড়িয়া মাঠে পাইকারদের আনাগোনা বেড়ে যায়, সেখান থেকেই ট্রাকবোঝাই হয়ে করলা চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।এই সাফল্যের পেছনে জহিরুল একা নন, রয়েছে স্থানীয় কৃষি অফিসের ঐকান্তিক সহযোগিতা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং পোকামাকড় দমনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ জহিরুলের এই ফলনকে সমৃদ্ধ করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক জাতের বীজের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ফলে এই অঞ্চলে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটছে। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে ফেরোমন ট্র্যাপের মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির ব্যবহারও বাড়ছে, যা ফসলের গুণমান বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে চান্দিনার বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার সঠিক ব্যবহারের ফলে এই অঞ্চলটি এখন সবজি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। জহিরুলের মতো সফল কৃষকদের দেখে গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকেরাও এখন কৃষিমুখী হচ্ছেন। বাড়ির আঙিনায় বা পরিত্যক্ত জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। দোবাড়িয়া মাঠের এই সবুজ বিপ্লব প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কঠোর পরিশ্রমের সাথে সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা থাকলে কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
