ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

বরই চাষে ফিরছে সচ্ছলতা

বরই চাষে ফিরছে সচ্ছলতা

বাগানের চারদিকে তাকালেই চোখে পড়ে শুধু বরই আর বরই। ছোট ছোট গাছগুলো বরইয়ের ভারে নুইয়ে পড়েছে। কোথাও সবুজ, কোথাও হলুদাভ পরিপক্ব বরইয়ে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। এই বাগান পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষানি মোসা. তসলিমার স্বপ্ন, শ্রম আর সাফল্যের গল্প।

মাত্র তিন বছর আগে শুরু করা একটি ছোট উদ্যোগ আজ তাকে পরিণত করেছে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তায়। সংসারের ফাঁকে নয়, বরং পুরো মনোযোগ আর নিরলস পরিশ্রম দিয়ে কৃষিকে বেছে নিয়েই তিনি বদলে দিয়েছেন নিজের জীবনের গতিপথ। তিন বছর আগে স্বামী আলী আকব্বর জোমাদ্দারের সঙ্গে একটি বড় বরই বাগানে বেড়াতে যান তসলিমা। সেখানকার বরইয়ের স্বাদ তাকে মুগ্ধ করে। তখনই মাথায় আসে নিজেই বরই চাষ করার ভাবনা। স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় বাড়ির সামনে এক একর জমি প্রস্তুত করে শুরু হয় তার কৃষিযাত্রা। যশোর থেকে মাত্র দশ হাজার টাকায় কেনা হয় সুন্দরী, কাশ্মীরি ও আপেল কুল জাতের একশ’ কলম চারা। নিয়মিত পরিচর্যা, সময়মতো সার ও সেচ ব্যবস্থাপনায় মাত্র এক বছরের মধ্যেই গাছে ধরে প্রচুর বরই। গেল মৌসুমে বরই বিক্রি করে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ করেন তসলিমা।

চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ কেজি বরই পাওয়ার আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বরই বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। তসলিমা বলেন, শুরুতে ভয় ছিল পারব কি না। কিন্তু নিয়ম মেনে চাষ করেছি, পরিশ্রম করেছি। আল্লাহ মুখে হাসি দিয়েছেন। এখন কৃষিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী তসলিমা। ছেলে সৌদি আরবে প্রবাসী, স্বামী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাড়িতে একাই বসবাস করলেও কৃষিকেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একসময় ভাবতাম একা পারবো না। এখন বুঝেছি, ইচ্ছা আর সাহস থাকলে নারী একাই অনেক কিছু করতে পারে। তসলিমার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকায় অনেকেই বরই বাগান করছেন, আবার অনেকেই নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন,আগে কখনও ভাবিনি এই এলাকায় বরই চাষ এতো লাভজনক হতে পারে। তসলিমাকে দেখে আমরাও উৎসাহ পাচ্ছি। আরেক স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, ওনার বাগান দেখে আমিও কয়েকটি বরইয়ের চারা লাগিয়েছি। কৃষি অফিস থেকেও এখন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম বলেন, পটুয়াখালী জেলায় কুল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় অল্প খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। আগ্রহী কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রস্তুত। পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর সাহস থাকলে যে নারীরাও কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন মোসা. তসলিমার বরই বাগান তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। তার এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো এলাকার কৃষি সম্ভাবনাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত