জাপা-এনডিএফ প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি জুলাই ঐক্যের
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) ১৪ দল ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোটের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের দিকে মার্চ করে জুলাই ঐক্য। পরে পুলিশি বাধার মুখে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে তারা।
গতকাল মঙ্গলবার সাড়ে ১২টার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের নিচে জড়ো হন। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে আসলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে তারা। বাধার মুখে জুলাই ঐক্যের তিন প্রতিনিধি নির্বাচন ভবনে স্মারকলিপি জমা দিয়ে আসেন।
স্মারকলিপি জমা দিতে আসার আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, জাপা, ১৪ দলকে যারা নির্বাচন করতে সুযোগ দেয় তারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে। জনতার ভাষা বুঝেন, অবিলম্বে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।’
এদিকে, মিছিলটি ইসলামী ফাউন্ডেশনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। এ সময় জুলাই ঐক্যের কিছু নেতাকর্মী ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, জুলাই ঐক্যের কর্মসূচিকে ঘিরে নির্বাচন ভবন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।
জুলাই ঐক্যের নেতারা দাবি করেন, জাতীয় পার্টি ও সংশ্লিষ্ট জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যমান আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও এসব প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ রাখা হয়েছে।
জুলাই ঐক্যের স্মারকলিপিতে যা বলা হয়
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সময় গণহত্যা চালিয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সরকার। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ যে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছিল তার আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ। গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্যরা এখনও বিচারের জন্য রাস্তায়। কিন্তু আমরা দেখছি, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডামি প্রার্থী ও জাতীয় পার্টিসহ এনডিএফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। এই জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাপা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ কায়েমে সহযোগিতা করে। গত ১৬ বছর জাপাসহ আওয়ামী লীগের সহযোগীরা বাংলাদেশে যত গুম, খুন, গণহত্যা ঘটিয়েছে, প্রকাশ্যে তার পক্ষে সহযোগিতা করেছে ১৪ দল। ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশ বিরোধী সব ধরনের কাজে লিপ্ত ছিল তারা। অবিলম্বে গণহত্যাকারীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, প্রশাসনের মধ্যে এখনও স্বৈরাচারের দোসররা অবস্থান করছে। যারা ২০১৮ সালের রাতের ভোটের কারিগর, ২০২৪ সালের ডামি নাটকীয় নির্বাচনের অংশ তাদেরই একটি অংশ ২০২৬ সালের নির্বাচনের দায়িত্বে। জুলাই ঐক্য মনে করে, এই প্রশাসন দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাঠ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যেসব ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশে গণঅভ্যুত্থানে গুলি চালানো হয়, সেসব ম্যাজিস্ট্রেটরা এখন বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে। জুলাই ঐক্য মনে করে, যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে তাদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে। ‘নাসির ও মদির কমিশন’ মডেলের নির্বাচন আমরা জুলাইয়ের শক্তি মেনে নিব না।
