কল্পকাহিনীর ফোন বাস্তবে

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর গল্পে এমন ফোন দেখা যায়। যার স্ক্রিন ইচ্ছামতো ভাঁজ হয়। বড় হয়, আবার ছোট হয়ে যায়। এবার সেই ধারণাকেই বাস্তবে রূপ দিতে চাচ্ছে স্যামসাং। নতুন ফোন গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড দিয়ে স্মার্টফোনের ভবিষ্যৎ নতুনভাবে তুলে ধরছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্টটি। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে চলমান কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস)-এ ফোনটি প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করেছে স্যামসাং। এর আগে নিজ দেশের বাজার দক্ষিণ কোরিয়ায় সীমিত পরিসরে ফোনটি ছাড়া হয়েছে। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড নাম থেকেই বোঝা যায়- ফোনটি ভাঁজ হয় তিন ভাগে। দুই জায়গায় ভাঁজ করা যায়। দেখতে অনেকটা ভাঁজ করা ব্রোশারের মতো। ভাঁজ করলে এটি একটি সাধারণ স্মার্টফোনের আকার নেয়। খুললে হয়ে যায় ট্যাবলেটের মতো বড়। ফোনটির ভেতরের স্ক্রিনের আকার ১০ ইঞ্চি। স্যামসাংয়ের জনপ্রিয় গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এর স্ক্রিন ৮ ইঞ্চি। সেখানে একটি ভাঁজ, ট্রাইফোল্ডে দুটি ভাঁজ। ফলে কাজের জায়গা আরও বড়।

খোলা অবস্থায় ফোনটি বেশ পাতলা। হাতে নিলে হালকা মনে হয়। তবে ভাঁজ করলে সেটি মোটা লাগে। যেন দুটি ফোন একসঙ্গে ধরা হয়েছে। ফোন হিসেবে ব্যবহার করতে কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। এখনও ফোনটির দাম জানায়নি স্যামসাং। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম অনেক বেশি হবে। কারণ গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এর দামই শুরু প্রায় ২ হাজার ডলার থেকে। ট্রাইফোল্ড তার চেয়েও ব্যয়বহুল হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফোন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়। এটি মূলত স্যামসাংয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। নতুন ধরনের ফোন মানুষ কীভাবে নেয়, সেটি বোঝার চেষ্টা। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহযোগী পরিচালক লিজ লি বলেন, এটি একটি ‘কৌশলগত পরীক্ষা’। তবু ফোনটির গুরুত্ব কম নয়। কারণ স্যামসাং বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন নির্মাতা। তাদের নতুন পণ্য বাজারে নতুন ধারা তৈরি করে। অতীতে ফোল্ডেবল ফোনের ক্ষেত্রেও তা দেখা গেছে।

স্যামসাং বলছে, ট্রাইফোল্ড মূলত কাজ ও উৎপাদনশীলতার জন্য বানানো। বড় স্ক্রিনে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো যাবে। স্প্লিট স্ক্রিনে কাজ করা যাবে। এমনকি ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো আলাদা উইন্ডোতেও অ্যাপ চালানো সম্ভব। ব্লুটুথ কিবোর্ড ও মাউস যুক্ত করলে এটি ছোট ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। অফিসের কাজ, লেখা বা প্রেজেন্টেশন- সবই করা সম্ভব। ফোনটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। গুগলের জেমিনি এআই একসঙ্গে স্ক্রিনে খোলা একাধিক অ্যাপের তথ্য বুঝে সাহায্য করবে। এতে কাজের গতি বাড়বে বলে দাবি স্যামসাংয়ের।

ক্যামেরার দিক থেকেও আপস করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ট্রাইফোল্ডের ক্যামেরা প্রায় গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রার সমমানের। বড় স্ক্রিনের জন্য ক্যামেরা মান কমাতে হয়নি। স্ক্রিনে দুটি ভাঁজের দাগ আছে। তবে খুব বেশি চোখে পড়ে না। বিশ্বজুড়ে ফোল্ডেবল ফোনের বাজার এখনও ছোট। দাম বেশি, ব্যবহারও সীমিত। তবু প্রায় সব বড় অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতা এখন এই ধরনের ফোন আনছে। অ্যাপলও শিগগিরই ফোল্ডেবল ফোন আনতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সব মিলিয়ে গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড হয়তো এখনই সবার হাতে যাবে না। তবে এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, স্মার্টফোনের উন্নয়ন থেমে নেই। ভবিষ্যতের ফোন কেমন হতে পারে? তার একটি ঝলক দেখাল স্যামসাং।