গণভোট প্রচারে জেলায় জেলায় যাচ্ছেন উপদেষ্টারা
‘হ্যাঁ’ বা ‘না’, উভয় পক্ষেই কথা বলার অধিকার সবার আছে - আইন উপদেষ্টা
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারণা শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন। প্রচার কার্যক্রমের আওতায় তারা আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গণভোটের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রচারণার অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গণভোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবেন। প্রচারণার প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’- উভয় পক্ষেই প্রচারণা চালানোর অধিকার সবার রয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাউকে এই প্রচারণা থেকে বিরত রাখবে না, কারণ এটি মানুষের সম্পূর্ণ নিজস্ব বিবেকবোধের বিষয়।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলার অধিকার যেমন সবার আছে, তেমনি ‘না’ ভোটের পক্ষে বলার অধিকারও সবার আছে। কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলের ব্যবস্থা দেশে অব্যাহত থাকুক, বৈষম্য ও নিপীড়ন আগের মতোই চলুক- তবে তিনি ‘না’ বলতেই পারেন। কাউকে প্রচারণা থেকে বিরত রাখার কোনও অধিকার বা ইচ্ছা আমাদের নেই।’
বিগত সরকারগুলোর সময়ে গণভোটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আগে বাংলাদেশে যত গণভোট হয়েছে, সব সময় সরকার একটি পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু এই গণভোটের মাধ্যমে কোনও নতুন সরকার গঠিত হবে না। আমরা শুরু থেকেই তিনটি প্রধান কাজের কথা বলেছি—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল সংস্কার। আমরা সরকারে থাকবো না, কিন্তু একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বার্থে সংস্কারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনও বিশেষ দলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি না।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আইনের ব্যাখ্যার চেয়ে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে জনকল্যাণ। আমরা দেখেছি ১৫ বছর শাসনতান্ত্রিক সংস্কার না হওয়ায় দেশের কী অবস্থা হয়েছিল। আমরা যেসব সংস্কার সরাসরি করতে পারছি সেগুলো করছি। কিন্তু সংবিধান পরিবর্তনের মতো বড় সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত প্রয়োজন, তাই আমরা বিষয়টি গণভোটে দিয়েছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংলাপে অংশ নেওয়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। প্রক্রিয়াগত কিছু পার্থক্য থাকলেও মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে সবার মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সরকারের এই প্রচারণা মূলত সংস্কারের প্রতি তাদের যে কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার), সেটিরই অংশ।
