অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারী চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সিলেট বিভাগের সবচাইতে বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড’ গঠন করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিন জনকে আটক করেছে। হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাত দিবাগত ১০টার দিকে হাসপাতালের ৬নং ওয়ার্ডে তিন জন রোগী একসঙ্গে ভর্তি হতে আসেন। এ সময় রোগীর সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি দ্রুত তার রোগীকে ভর্তি করে দিতে সেখানে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। বিতণ্ডার একপর্যায়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকসহ দায়িত্বরতদের ওপর হামলা চালান ওই রোগীর স্বজনরা। হামলায় এক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হেনস্তার শিকার হন এবং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মী মারধরের শিকার হন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নারীসহ তিন জনকে আটক করেন। পরে ডাক্তার ও স্টাফরা মিলে রোগীর স্বজনসহ তিন জনকে বেধড়ক পেটান বলে অন্য একটি সূত্র জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ গভীর রাতে ওই তিন জনকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। বর্তমানে তাদের মধ্যে দুজন নগরীর অন্য একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা রাত থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।’ তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।’
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে তর্ক এবং মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল হাসপাতালে যায়। হামলার ঘটনায় কয়েকজন আটক আছেন। হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর আছে।’ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কোতয়ালি থানার ওসি খান মো. মঈনুল জাকির জানান, দোষীদের খুঁজে বের করতে তারা কাজ করছেন। শিগগিরই এ বিষয়ে তারা সফল হবেন। আন্দোলনে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসক মার্জিয়া আলম বলেন, ‘দায়িত্বরত চিকিৎসককে সেবা দিতে হলে অনেক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে হাসপাতালের। রোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন না। আমাদের নারী চিকিৎসককে হেনেস্তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটেছে তা একেবারেই ন্যক্কারজনক। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। রোগীদের সেবা চলমান রয়েছে। হাসপাতালে আমাদের ইনডোর মেডিকেল অফিসার, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রারসহ দায়িত্বরতরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।’
তবে রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে ঘটনার সময় চিকিৎসকের দায়িত্বে গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মবিরতির বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের শীর্ষস্থানীয়দের আমরা ডেকেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাব।
হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, ৯০০ বেডের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এ কারণে চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের গলদঘর্ম হতে হয়।
