গিজারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে করণীয়

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

হাড়কাঁপানো শীতে আরামদায়ক গোসলের জন্য গিজার এখন বিলাসবহুল কোনো পণ্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স। তবে শীতের শেষে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ হাতে পেলেই অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কারণ, বাসাবাড়ির অন্যান্য যন্ত্রের তুলনায় গিজার বা ওয়াটার হিটার প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানেই কি তবে গরম জলের আরাম ত্যাগ করা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন- মোটেও না। বরং কিছু স্মার্ট কৌশল অবলম্বন করলে গিজারের বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব। জেনে নিন সাশ্রয়ের সেরা কিছু টিপস-

সঠিক ধারণক্ষমতার গিজার বেছে নেওয়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রথম ধাপ। আপনি যদি একা বা ছোট পরিবার হন, তবে ৩-লিটারের ইনস্ট্যান্ট গিজার বা ছোট স্টোরেজ মডেল বেছে নিন। এটি দ্রুত পানি গরম করে এবং বাড়তি বিদ্যুতের অপচয় রোধ করে। বড় পরিবারের ক্ষেত্রে ১৫-২৫ লিটারের মডেল বেশি কার্যকর। অনেকেই গিজারের থার্মোস্ট্যাট সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় দিয়ে রাখেন, যা অপ্রয়োজনীয়। থার্মোস্ট্যাট ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করা গোসলের জন্য যথেষ্ট গরম এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কমিয়ে দেয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা গিজার চালু রাখা বিল বাড়ানোর অন্যতম কারণ। আধুনিক গিজারগুলো একবার জল গরম করার পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারে। তাই কাজ শেষে সুইচ বন্ধ করে দেওয়ার অভ্যাস করুন। গিজারের ট্যাংক এবং পানির পাইপগুলো যদি সঠিকভাবে ইনসুলেটেড বা তাপ নিরোধক আবরণে ঢাকা থাকে, তবে তাপের অপচয় কম হয়। এতে পানি দ্রুত গরম হয় এবং বারবার অটো-রিস্টার্ট হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বছরে অন্তত একবার গিজার সার্ভিসিং করানো উচিত। আপনার এলাকার জলে আয়রনের মাত্রা বেশি হলে গিজারের হিটিং এলিমেন্টে আস্তরণ জমে যায়, ফলে পানি গরম হতে দ্বিগুণ সময় লাগে। নিয়মিত পরিষ্কার বা ‘ডিস্কেলিং’ করলে হিটার পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করতে পারে।

নতুন গিজার কেনার সময় সবসময় স্টার রেটিং বা শক্তি-সাশ্রয়ী মডেল বেছে নিন। এগুলোতে উন্নত মানের ইনসুলেশন থাকে, যা দ্রুত পানি গরম করার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ গরম রাখতে সক্ষম। শুধু হাত ধোয়া বা রান্নার কাজে গরম পানি দরকার হলে বড় স্টোরেজ গিজারের পরিবর্তে ‘ইনস্ট্যান্ট ওয়াটার হিটার’ ব্যবহার করুন। এটি শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী পানি গরম করে এবং বাড়তি পানি জমিয়ে রেখে বিদ্যুৎ অপচয় করে না। শীতকালে মাসে কতো বিল আসছে এবং প্রতিদিন কত ঘণ্টা গিজার চলছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। একটু সচেতনতাই আপনার বিদ্যুৎ বিলকে সহনীয় পর্যায়ে রাখবে এবং যন্ত্রটির আয়ু বৃদ্ধি করবে। গিজার ব্যবহারের সময় সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ শুধু পকেটের অর্থই বাঁচায় না, বরং বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমায়। এই শীতে সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।