সিধা পথে রাজনীতি করুন, ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা করবেন না

বললেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা অতীতে বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি, তারা এখন বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট চেয়ে তারা জনগণের সঙ্গে মোনাফেকি করছে। তিনি বলেন, আমরা সহনশীলতায় বিশ্বাস করি, তাই আপনাদের বলব সিধা পথে রাজনীতি করেন। ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা করবেন না। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি পক্ষ বলছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশত পাওয়া যাবে। তাহলে নামাজ-রোজার আর কী দরকার? আমরা প্রকৃত ধর্মে বিশ্বাস করি। শহিদ জিয়াই সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেছিলেন। তাই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে লাভ নেই।’

বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কার বিএনপিরই সন্তান। ২০২২ সালে আমরাই সর্বপ্রথম সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। সব দলের সাথে আলোচনা করে আমাদের নেতা এ সংক্রান্ত ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অথচ ঐকমত্য কমিশন অনেক বিষয়ে বেইমানি করেছে। আমরা যা চাইনি, তাও সংস্কারে যুক্ত করা হয়েছে। তারপরও আমরা অনেক কিছু মেনে নিয়েছি।’

আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যাদের তিনটি ভোট নেই, তারা এখন নির্বাচন প্রতিহতের হুমকি দিচ্ছে। এবারের ভোটে প্রমাণ হবে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় থাকবে, নাকি উগ্রবাদীদের হাতে যাবে। আমরা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি। জনগণ ভোট দিলে সরকারে যাব, না দিলে বিরোধী দলে থাকব।’

শহীদ জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান আমাদের জাতীয়তা ও ভূখণ্ডের পরিচয় দিয়েছেন। তার অবর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া এবং এখন তারেক রহমান সেই পতাকা ধরে রেখেছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছিলেন অসংখ্য লাশ পড়বে। তখন আমরা হাসপাতালে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বলেছিলাম একটি বাণী দিতে। তার বাণীতে সব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

গত ১৫ বছরে অনেক কষ্ট, যন্ত্রণা ও ত্যাগ পাড়ি দিয়ে আমরা এই পর্যায়ে এসেছি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করি আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করবো।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।