সুসংবাদ প্রতিদিন
সরিষা থেকে মধু সংগ্রহে বাড়তি আয়
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দেলোয়ার হোসেন রিপন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পুরো মাঠ যেন ঢেকে আছে হলুদের চাদরে। উপজেলার মৌ-চাষিরাও ব্যস্ত সরিষা থেকে মধু সংগ্রহে। ফসলি জমির পাশে পোষা মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির তারা। ওইসব বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি উড়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে।
গতকাল বুধবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ধলা ইউনিয়নের সেকান্দরনগর নয়াপাড়া এলাকায় ১০০টি মৌমাছির বাক্স বসিয়ে পোষা মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করছেন সেকান্দরনগর হালুয়াপাড়া গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে মৌচাষি তাফসিরুল। মৌচাষি তাফসিরুল বলেন, কয়েক বছর ধরে মধু সংগ্রহ করছি। এ বছর সেকান্দরনগর নয়াপাড়া সাইটে এক সপ্তাহ ধরে মধু সংগ্রহের করছি। মধু সংগ্রহের জন্য স্টিল ও কাঠ দিয়ে তৈরি প্রায় ১০০টি বাক্স বসিয়েছি। প্রতিটি বাক্স থেকে ৫-৬ কেজি মধু পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যাবে।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষককে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধকরণের ফলে এ বছর ২ হাজার ৩৩১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, এই বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে সরিষা চাষ করতে এ অঞ্চলের কৃষকেরা বেশি আগ্রহী হয়েছে। বিস্তীর্ণ সরিষাখেতের পাশে বাক্স বসিয়ে পোষা মৌমাছি দিয়ে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষিরা। তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, সরিষা খেতে মৌমাছির বিচরণ থাকায় ফুলের পরাগায়ণে সহায়তা হয়, ফলে সরিষার ফলনও হয় বেশি। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে সরিষার চাষ হয়েছে। এবার মৌচাষিরা নির্বিঘ্নে মধু সংগ্রহ করছে। এখন সরিষা চাষিরা মৌচাষিদের বাঁধা না দিয়ে সহযোগিতা করে। সরিষা চাষিদের ও মৌ বাক্স স্থাপনকারীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
