ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে
বললেন মাহদী আমিন
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের খুব প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যে দাবিটি করেছেন, তিনি একটি মিডিয়ার কথা বলেছেন। স্বাভাবিকভাবে, তার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। আর কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন না। কারণ যে তথ্য মিডিয়ায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেছেন, সেটির ন্যূনতম কোনো বাস্তবতা বা সত্যতা নেই। গতকাল শনিবার সকালে গুলশানে ৯০ নম্বর রোডের নির্বাচনি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, বিতর্ক তৈরি করার জন্য এটি একটি রাজনৈতিক অপকৌশল। আর যদি উনাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয় বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য করা হয় তাহলে সেটা উনার অজ্ঞতা। আমরা মনে করি, এটা অপকৌশল বা অজ্ঞতা যেটিই হোক ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার। তিনি বলেন, আমরা গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি যে, এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে। কোনো অপপ্রচার, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না। কারণ বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে রাজনীতি সেটা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতা এটিকে কেন্দ্র করেই বিএনপির রাজনীতি।
ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের নামে যদি কেউ কোনো টাকা-পয়সা দাবি করে সেটা একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত।
তিনি বলেন, একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা চাচ্ছে। তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার যে পরিকল্পনা, এরইমধ্যে তা দেশব্যাপী আলোচিত-সমাদৃত হয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় ইনশাআল্লাহ তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ডগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি কেউ এই বিষয়ে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে আপনারা আমাদের অবহিত করবেন এবং অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হবেন।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি জনসংযোগে সমাবেশের অংশ নিতে আজ রাতেই আকাশপথে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন জানিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপত্র আরও বলেন, সফরের শুরুতে তিনি আজ ২৪ জানুয়ারি রাত ৭ টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে প্লেনে করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করবেন। আগামীকাল অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় স্থানীয় একটি হোটেলে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ইউথ পলিসি টকে অংশগ্রহণ করবেন। এই পলিসি টকে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করবেন। তরুণ-তরুণীদের আকাঙ্ক্ষা এবং পরামর্শকে ধারণ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম পোলগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশ সংগ্রহণ করবেন।
সমাবেশ শেষ করে তিনি যাত্রা পথে ফেনী পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। তারপর তিনি কুমিল্লায় যথাক্রমে চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠ, সুয়াগাজী দিকবাজির মাঠ এবং দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তিনটি পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য রাখবেন। এরপর যাত্রাপথে তিনি নারায়ণগঞ্জের কাজলমাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগদান করবেন। দিনভর কর্মসূচি শেষে তারেক রহমান গুলশানে তার নিজস্ব বাসভবনে রাতে পৌঁছাবেন। সিলেট সফরের মতো এই সফরেও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ত্যাগী নেতাদের একাংশ উনার সফরসঙ্গী হবেন।
আজ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান, ৪ জেলায় ৬টি জনসভা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। গতকাল ঢাকার গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলীয় চেয়ারম্যানের চট্টগ্রাম সফরের সূচি প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তারেক রহমান গতকাল ঢাকা থেকে আকাশপথে চট্টগ্রামে যান। সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী উড়োজাহাজ চট্টগ্রামে অবতরণ করেন। রাতে চট্টগ্রামে থাকেন তিনি।
আজ তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি সমাবেশ হবে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ডে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে। বিকেলে তিনি ফেনীতে যাবেন। সেখানে ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠে বিকেল চারটায় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লায় আরও দুটি জনসভা করবেন তিনি। এর একটি সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে। অন্যটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে।
কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে এসে একটি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এই জনসভা রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দিনের কর্মসূচি শেষ করে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফিরবেন তারেক রহমান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রচার ২২ জানুয়ারি সিলেট দিয়ে শুরু করেন তারেক রহমান। ওই দিন সিলেটের পর আরও ছয়টি জেলায় সমাবেশ করে ঢাকায় ফেরেন তিনি।
ঢাকা-১৭ আসনের ভাষানটেক বিআরবি মাঠের জনসভায় মঞ্চে উঠেই স্থানীয় কয়েকজনকে দর্শকসারি থেকে ডেকে নেন তারেক রহমান। তাদের কাছ থেকে শোনেন এলাকার সমস্যার কথা।
এরপর গত শুক্রবার রাতে নিজের নির্বাচনি এলাকা রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি ময়দানের জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
