অফিসে যা খেতে পারেন
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

অফিসে দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করার কারণে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কাজের ফাঁকে ক্লান্তি-অবসাদ কাটাতে বা ক্ষুধা মেটাতে আমরা প্রায়ই ভাজাপোড়া, সিঙ্গারা, চিপস, চকোলেট কিংবা বিস্কুটের মতো ক্যালোরি বেশি কিন্তু পুষ্টিগুণ কম খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ি। নিয়মিতভাবে এ ধরনের খাবার গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সামান্য সচেতনতা ও পরিকল্পনা থাকলেই এই অভ্যাস বদলানো সম্ভব। অফিসে কাজের ফাঁকে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার বেছে নিলে ক্ষুধা যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকে, তেমনি ওজন না বাড়িয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদাও সহজে পূরণ করা যায়।
অফিসের স্ন্যাকস হিসেবে আপেল ও পিনাট বাটার হতে পারে একটি চমৎকার বিকল্প। এক টেবিল চামচ পিনাট বাটার দিয়ে আপেল বা কলা খেলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। আপেলের ফাইবার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পিনাট বাটার মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। কর্মচাঞ্চল্যও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন একটি বা দুটি সেদ্ধ ডিম সঙ্গে রাখা যেতে পারে। এটি শরীরের পুষ্টির ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে আজেবাজে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগে না। স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য ফলের সালাদ বা ড্রাই ফ্রুটস অন্যতম সেরা বিকল্প। মৌসুমি বিভিন্ন ফল কেটে সালাদ তৈরি করে অফিসে নিয়ে যাওয়া যায়। ফলের সালাদ শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে।
এর পাশাপাশি ব্যাগে কাঠবাদাম বা আখরোট রাখা যেতে পারে, যা কাজের ফাঁকে ফাঁকে খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অনেকেরই কাজের চাপে মিষ্টি বা চকোলেট খাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষ তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে সাধারণ চকোলেটের বদলে অন্তত ৭০ শতাংশ কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ডার্ক চকোলেট শুধু মিষ্টি খাওয়ার আগ্রহই কমায় না, বরং কাজে মনোযোগ বাড়াতে এবং ক্লান্তি দূর করে নতুন শক্তি জোগাতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই এভাবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে অফিসে কাজের ফাঁকেও নিজেকে সুস্থ ও ফিট রাখা সম্ভব।
