সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে মালিক-সম্পাদকদের সমালোচনায় প্রেস সচিব
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছয় জন সাংবাদিক মারা গেছেন, তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর পেছনে অনেকাংশে দায়ী, তাদের কোনও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, নোয়াব (নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ), এডিটরস কাউন্সিল অনেক বড় বড় কথা বলে, সাংবাদিকদের একটা ইকুইপমেন্ট তারা দেন না। গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ সভাপতিত্ব করেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম পেশাজীবী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। শফিকুল আলম বলেন, “আমরা যারা সাংবাদিকতা করি, অনেক বেশি করে আমরা সরকারের সমালোচনা করি। সরকারের এটা করা উচিত ছিল, করছে না; সরকার ওইটা করা উচিত ছিল, করছে না। সরকারের ব্যর্থতাগুলো এত বেশি সামনে এনে সবার মধ্যখানে দাঁড়ায়– অন্যান্য যারা আছেন জার্নালিজমের ক্ষেত্রে, সেফ জার্নালিজমের জন্য যারা যারা দায়ী, তাদের কথাটা আমরা ভুলে যাই। এই ভুলে যাওয়াটা উচিত না। অন্যান্য যাদের ব্যর্থতা তাদের কথাটাও বলা উচিত– এই ব্যর্থতাটা অনেক বড় ব্যর্থতা।”
প্রেস সচিব বলেন, আমাদের জুলাই আন্দোলনে ছয় জন সাংবাদিক মারা গেছেন। তাদের নিষ্ঠুরভাবে খুন করা হয়। সত্যিকার অর্থে এটার জন্য দায়ী, একটা সাংবাদিককে কোনও সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়নি। যারা সাংবাদিকতা করলেন, যারা নিজেদের একদম সামনে নিয়ে এলেন, এনে জীবনকে উৎসর্গ করলেন তাদের একটা হেলমেট ছিল না। তাদের একটা প্রটেক্টিভ ভেস্ট ছিল না। তাদের একটা গগলস ছিল না। এমনকি এত টিয়ার গ্যাস নিতে হয়েছে, একটু টিয়ার গ্যাস থেকে মুক্তির কোনও কিছু তাদের ছিল না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, আজ সাংবাদিকদের নিয়ে নোয়াব অনেক বড় বড় কথা বলে– একটা জার্নালিস্টের ইকুইপমেন্ট তারা দেয় না। কয়েক দিন আগে তারা অনেক বড় একটা সম্মেলন করলেন। একটা সাংবাদিকের সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে কথা বলেছেন কেউ? একটা কথা বলেন নাই। এডিটরস কাউন্সিল অনেক বড় বড় কথা বলে। এই বিষয়টা নিয়ে তারা একটা স্টেটমেন্ট দেন নাই। ছয় জন সাংবাদিক মারা গেলেন। নোয়াব-এডিটরস কাউন্সিল কি একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছিল? আমি দেখি নাই।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবশ্যই আপনারা সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরবেন। কিন্তু যারা আপনার এমপ্লয়ার, যারা আপনাকে একটা ইভেন্ট কাভার করতে পাঠাচ্ছে তাদের অনেক দায়িত্ব আছে– সেই দায়িত্ব তারা কতটুকু পালন করছে সেটা নিয়েও আপনারা একটু সোচ্চার হবেন। এটা আমি আপনাদের অনুরোধ করবো, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।
শফিকুল আলম বলেন, এখানে ঐক্যের ডাক আসছে, অবশ্যই আমরা ঐক্য চাই। বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যের মধ্যে থাকলে সবার জন্য ভালো। আমি কয়দিন পরে সাংবাদিকতায় ফিরতে চাচ্ছি। আমিও মনে করি, আমাদের মধ্যে ঐক্যের ডাক আসা উচিত। কিন্তু আসলে ঐক্য কী খালি সিলেক্টিভ ঐক্য, কয়েকটা লোকের জন্য ঐক্য, নাকি সবার জন্য ঐক্য? যে বিরুদ্ধবাদী জার্নালিজম করে সেও তো চায় আপনার থেকে ঐক্য ডাক, সেও শুনতে চায় কিন্তু তাকে আপনি সরিয়ে দিয়ে আপনার বিষয়ে খালি ঐক্যের ডাক দেবেন, তাহলে তো হয় না।
তিনি বলেন, “ঐক্যে সবাইকে নিয়ে আসা উচিত, সবার জন্য ঐক্য থাকা উচিত। সাংবাদিক যখন ব্যাটেল গ্রাউন্ডে যায়, সে সবার কাছ থেকে সাপোর্ট চায়, শুধু একটা-দুইটা লোকের কাছ থেকে সে সাপোর্ট চায় না। দেশে সব ধরনের; বামণ্ডডানপন্থি ও মধ্যপন্থি মিডিয়া থাকবে। যে যাকে মনে করে এটা আমার অডিয়েন্স সে তার অডিয়েন্সকে সার্ভ করবে অবশ্যই জার্নালিস্টিক ইথিক্স মেনে। কিন্তু আমি শুধু এই গ্রুপের সঙ্গে ঐক্য করবো, ওই গ্রুপের সঙ্গে করবো না; ওই গ্রুপ যখন বিপদে পড়বে তাদের এডিটরকে হিসেবে নিয়ে আসবে তখন আমি একটা স্টেটমেন্ট দেবো না, সরি, তাহলে আর ঐক্য হলো না। তখন এই অনৈক্যকে যারা সরকারে থাকেন, যারা শক্তিশালী গ্রুপ, এটাকে এক্সপ্লোয়েট করেন। আমরা চাই না এটা এক্সপ্লয়েটেড হোক, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা সবার জন্য ফ্রি থাকুক, সবার জন্য সেফ থাকুক। সবাই যেন মন খুলে লিখতে পারে এটা থাকুক এবং আমি আবারও বলি, গত ১৮ মাস এই সরকার সেই চেষ্টাটা করেছে। আমরা কতটুক সফল হয়েছি, আপনারা এটা বিচার করবেন। আমাদের মাত্র আর দুই সপ্তাহ মতো আছে, এই সরকার দুই সপ্তাহের মতো আছে। আপনারা বিচার করবেন, আপনারা কতটা প্রাণ খুলে লিখতে পেরেছেন। অনেকে অনেক কথা বলেন, অনেক বিষয় তুলে আনেন, আমি আবারও বলবো, কোনও সাংবাদিককে এই সরকারের সমালোচনা করার জন্য কোনও ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি, অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে কিন্তু আপনি সমালোচনা করতে পেরেছেন।”
