সুসংবাদ প্রতিদিন
স্কোয়াশ চাষে বদলে যাচ্ছে নবীনগরের কৃষির চিত্র
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ইব্রাহীম খলিল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে স্কোয়াশ। বিদেশি জাতের এই সবজি দেখতে শসার মতো হলেও পুষ্টিগুণ, স্বাদ ও বাজারমূল্যে বেশ এগিয়ে। অল্প সময়ে অধিক ফলন ও লাভজনক হওয়ায় নবীনগরের কৃষকদের মাঝে স্কোয়াশ চাষে আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষে গড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর মাত্র ১০০ দিনের ব্যবধানে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে স্কোয়াশের সফল চাষ শুরু হয়েছে। বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর ব্লকের ধরাভাংগা গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া স্কোয়াশ চাষে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ আবাদ করেন। বীজ বপনের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই প্রথম দফায় ১০ কেজি স্কোয়াশ সংগ্রহ করেন। এরপর ৪৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪৩ কেজি স্কোয়াশ উৎপাদন করতে সক্ষম হন। কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, স্কোয়াশ চাষে খরচ কম, রোগবালাইও তুলনামূলকভাবে কম হয়। অল্প সময়েই ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম ভালো থাকায় ভালো লাভ হচ্ছে। তার সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বড়িকান্দি ইউনিয়নের পাশাপাশি নবীনগর পৌরসভা এলাকাতেও স্কোয়াশ চাষের প্রসার ঘটছে। নবীনগর পৌরসভার আলমনগর গ্রামের কৃষক মুর্শেদা বেগম প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন। তিনি জানান, পারিবারিক উদ্যোগে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেছেন এবং কম সময়ে ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে স্কোয়াশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে অল্প জায়গা ব্যবহার করেও কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারছেন। বড়িকান্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার দেলোয়ার হোসাইন বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে স্কোয়াশে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঠপর্যায়ে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি, যাতে এই ফসলের চাষ আরও বিস্তৃত হয়।
নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, স্কোয়াশ একটি দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চমূল্যের সবজি। নবীনগরের মাটি ও আবহাওয়া এই ফসলের জন্য খুবই উপযোগী। জমির আইল, বসতবাড়ির আশপাশ এবং পতিত জমিতে স্কোয়াশ চাষ করে কৃষকরা সহজেই অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি নবীনগরের একটি লাভজনক সবজি ফসলে পরিণত হবে এবং কৃষকদের আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
