রাজনৈতিক দলগুলো যথেষ্ট সহিষ্ণু : প্রেস সচিব
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আমরা মনে করছি- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও যথেষ্ট সহিষ্ণতা আছে এবং একটা-দুইটা অবশ্যই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। আমরা সেটা অস্বীকার করছি না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। প্রেস সচিব বলেন, ইলেকশন ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি। আজকে ২৯ জানুয়ারি, ৮ দিনের মতো হয়েছে। এখানে তো আপনারা দেখছেন, যে ঘটনা ঘটছে যতদূর দেখা গেছে, আমাদের পুলিশের হিসাবে মারা গেছেন চারজন। এই ইলেকশন শিডিউল ঘোষণার পর মারা গেছেন মোট চারজন। ইলেকশনের এখনও প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি আছে। এখনও বলার মতো কিছু হয়নি। কিন্তু আপনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যে ইলেকশন হলো- তার আগের আপনি যদি ইলেকশনের সহিংসতা দেখেন, ওই ইলেকশনে ১১৫ জন মারা গিয়েছিল। সে অনুযায়ী আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলো যথেষ্ট সহিষ্ণু আচরণ করছেন। তারা ভালো ক্যাম্পেইন করছেন এবং সত্যিকার অর্থে আপনি দেখবেন যে, তারা আইনগুলো মেনে চলছেন। আপনি খুব কম পোস্টার দেখবেন। পোস্টার কিন্তু আমরা সেরকম দেখছি না। আচরণবিধি খুব ভালোভাবে তারা মানছেন। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলো অনেকটা বেটার যাবে। আর গ্র্যাজুয়ালি সিকিউরিটি ফোর্সেস ডিপ্লয়মেন্ট শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে সিচুয়েশন আরও বেটার হবে, ইনশআল্লাহ।
শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, আমরা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছি এবং পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। ঘটনা তদন্ত করে যারা এ ঘটনায় দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে যত দ্রুত সম্ভব তাদের গ্রেপ্তার করা যায়, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং যিনি ঘটনার শিকার, ওনার লাশ আজকে বিকালে এলাকায় পৌঁছালে- জানাজা শেষে রাত আটটা নাগাদ পুলিশ জানিয়েছে, ওনার দাফন সম্পন্ন হবে। দাফন সম্পন্ন হলে পুলিশের পক্ষ থেকে ওনার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে- তারা মামলা করতে ইচ্ছুক কি না। যদি তারা মামলা করতে ইচ্ছুক হয় এবং তারা এ ঘটনায় কাউকে দায়ী করেন, তাহলে তাদের দাখিলকৃত এজাহার অনুযায়ী মামলা রজু করা হবে। যদি তারা অন্যভাবে ইচ্ছা করেন, তাহলে পুলিশ নিজ দায়িত্বে মামলা করবে এবং মামলা যখনই হোক পুলিশ জানিয়েছে, তাদের তদন্ত চলমান আছে। তারা চেষ্টা করছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তথ্য প্রমাণ ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যারা প্রকৃতভাবে দায়ী এ ঘটনার জন্য, তাদের চিহ্নিত করা সঠিকভাবে এবং চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা।
তিনি আরও জানান, অবশ্যই শক্ত পদক্ষেপ তো নেওয়া হচ্ছেই। শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ তথ্য উপস্থিত যারা আছে, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যারা প্রকৃতভাবে দায়ী, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। কারণ আপনি জানেন, কালকে যখন ঘটনাটা ঘটেছে, সেখানে অনেক মানুষ ছিল। ঢালাও একটা গ্রেপ্তার অভিযান না করে যারা ঘটনার জন্য প্রকৃতভাবে দায়ী, তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে যাতে গ্রেপ্তার করা যায়, সেজন্য পুলিশ খুব নিভিড়ভাবে তদন্ত করছে। পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে ভিকটিমের সঙ্গে, যাতে করে নিরপরাধ কেউ গ্রেপ্তার না হয়, বা অযথা হয়রানির শিকার না হয়; কিন্তু প্রকৃত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই ছাড় না পায়।
