সুসংবাদ প্রতিদিন
প্রযুক্তিনির্ভর ড্রাগন চাষ সফলতার আলো ছড়াচ্ছে
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এস এম মজিবুর রহমান, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়গোপালপুর গ্রামে সন্ধ্যা নামলেই চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। বিস্তীর্ণ ড্রাগন ফলের বাগানে রাতের বেলায় সারি সারি এলইডি আলোর ঝলকানি। এই আলো কেবল অন্ধকারই দূর করেনি কৃষি উদ্যোক্তাদেরও নতুন পথ দেখাচ্ছে। এলইডির আলোতে উদ্যোক্তা মো: জহিরুল ইসলাম অমৌসুমেও ড্রাগন ফলনে এনে দিয়েছেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন। শীত মৌসুমে ড্রাগনের ফলন না থাকার কথা থাকলেও যেমন পাচ্ছেন ফলন তেমনি দামও পাচ্ছেন দ্বিগুণ। তার এই সাফল্য অনেক শিক্ষিত বেকারদেরও কৃষি উদ্যোক্তা হতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
স্থানীয় দর্শনার্থী ও ক্রেতা আবুল কালাম বলেন, মৌসুমেও ড্রাগন ফল খেয়েছি এখনও খেলাম, কিন্তু স্বাদের কোনো তারতম্য নেই। সন্ধ্যার পরে যখন এই বাগানগুলোতে এলইডি লাইট জ্বলে উঠে তখন বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের এক প্রান্তে শুধু চোখ জোড়ানো আলোর খেলা। এই দৃশ্য দেখার জন্যও অনেক সৌন্দর্যপ্রেমীরা ভিড় জমায়। জহিরুল ভাইয়ের সাফল্য আমাদের মতো শিক্ষিত তরুণ ও বেকার যুবকদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস জোগাচ্ছে।
স্থানীয় পাইকার মো: হাবিবুর রহমান বলেন, মৌসুমের চেয়ে অমৌসুমে বাজারে ড্রাগন ফল কম সরবরাহ থাকায় ক্রেতাদেরও চাহিদা অনেক বেশি। ফলে মৌসুমের চেয়ে আমরা দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে পারি। লাভও হয় অনেক বেশি।
উদ্যোক্তা জহিরুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালে দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন আবাদ করে যাত্রা শুরু। পাঁচ বছরের ব্যবধানে বাগানের পরিধি এখন ২০ বিঘা। গত বছর প্রথমে দুই বিঘা জমিতে এলইডি লাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অমৌসুমে ড্রাগন চাষে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পেয়ে চলতি মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করেছি। ফলাফলও মিলেছে বেশ ভালো। অমৌসুমে বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদা বেশি থাকায় মৌসুমের তুলনায় ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিগুণেরও বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে। আলো প্রযুক্তির ফলাফল আশাব্যঞ্জক হওয়ায় আগামী মৌসুমে পুরো ২০ বিঘা বাগানই এলইডি লাইটের আওতায় আনার কথা ভাবছি। এরই মধ্যে আমার লগ্নিকৃত কোটি টাকার ৭০ লাখ টাকা উঠে এসেছে। আগামী ড্রাগন মৌসুমে বাকি টাকাও উঠে আসবে। তার পরের মৌসুম থেকে লাভ আসতে থাকবে। ড্রাগন গাছ থেকে টানা ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। প্রথম ২ বছরের পর কিছু ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোন বড় খরচ করতে হয় না।
শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, শরীয়তপুরের মাটি ড্রাগন চাষের উপযোগী। উদ্যোক্তা জহিরুল শুধু মৌসুমের ফলনের নির্ভর করে না থেকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অমৌসুমেও বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন। এটা কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তার এই সাফল্য নতুনদের উদ্যোক্তা হওয়ার টনিক হিসেবে কাজ করবে। জহিরুল আধুনিক কৃষি বাণিজ্যিকীকরণের এক উজ্জাল দৃষ্টান্ত। কৃষির উন্নয়নে আমরা সবসময় কৃষকদের পাশে থাকব।
