১১ ফেব্রুয়ারি দূরপাল্লার বাস চলবে
জানাল মালিক সমিতি
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে দূরপাল্লার বাস চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে নির্বাচনের দিন বেশির ভাগ সার্ভিস বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের সময় বাস চলাচলে কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে পরিবহন অপারেটররা জানিয়েছেন, তাদের বেশির ভাগ কর্মী ভোটদানের জন্য অনুপস্থিত থাকার কারণে সার্ভিস বন্ধ থাকবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতির চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ১১ তারিখে বাস চলবে। তবে, আমরা এখনও সেই দিনের টিকিটের খুব বেশি চাহিদা দেখিনি। ১০ তারিখে টিকিটের জন্য প্রচুর চাপ রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, বাস চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বেশিরভাগ কর্মী ভোটের জন্য ছুটি চেয়েছেন। আমরা তো আর না করতে পারি না। তবে, ভোট শেষ হওয়ার পরে রাতে সার্ভিস পুনরায় চালু হতে পারে।
ঢাকা-নেত্রকোনা রুটে চলাচলকারী রফ রফ পরিবহনের কাউন্টারে যোগাযোগ করা হলে তারা নিশ্চিত করে যে, ১১ ফেব্রুয়ারি বাস চলবে, তবে ১২ ফেব্রুয়ারি তারা সার্ভিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নির্বাচনের সময়ে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোটের দিন ট্যাক্সি, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ ছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে শর্তসাপেক্ষে কিছু যানবাহনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন; জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন; ওষুধ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন।
সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।
নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরিসেবা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিটিআরসি ও এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনও নিষেধাজ্ঞামুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজনকে আনতে বা পৌঁছে দিতে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যানবাহন (টিকিট বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে); দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনকারী যানবাহন; প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি এবং নির্বাচনি এজেন্টের জন্য একটি করে ছোট আকৃতির যানবাহন (রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে) নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, আন্তঃজেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং সংযোগ সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এ ছাড়া উল্লিখিত যানবাহন ব্যতীত অন্যান্য যানবাহনের ওপরও বর্ণিত সময়সূচি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিলের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
