বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা বাড়তি ভাড়া আদায়
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনের আর বাকি এক দিন। এ উপলক্ষে আজ থেকে শিল্পাঞ্চলে টানা তিন দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে যাওয়ায় টানা ছুটি মিলছে। এই সুযোগে ভোট দিতে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটছেন হাজারও মানুষ। সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ দেখা গেছে। সাভার ও গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের সংখ্যা কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সুযোগ বুঝে বাসশ্রমিকেরা দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। কোথাও কোথাও যানবাহনের ধীরগতি ও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে আজ সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা।
জামালপুর যাওয়ার জন্য বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত পোশাকশ্রমিক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘আমি গ্রামের ভোটার। ভোট দিতে বাড়ি যাব। কিন্তু ৩০০ টাকার ভাড়া এখন ১ হাজার টাকা চাইছে।’ একই অভিযোগ করেন সাভার বাসস্ট্যান্ডে পরিবার নিয়ে অপেক্ষারত পোশাক কারখানার সুপারভাইজার সুরুজ আলী। তিনি বলেন, ‘ভোট দিতে বাড়ি যাব, কিন্তু বাস পাচ্ছি না। দ্বিগুণ ভাড়া দিতে রাজি হয়েও বাস পাচ্ছি না।’ পরে মোবাইলে জানান, বাস না পেয়ে অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন তিনি। গাজীপুরে ঘরমুখো মানুষ সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান বলেন, একসঙ্গে অনেক কারখানায় ছুটি হওয়ায় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। বাসের সংখ্যা কম থাকায় এবং যাত্রীরা সড়কের ওপর অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচলে কিছুটা ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে গাজীপুরের চিত্রও অনেকটা একই রকম। আজ সকাল থেকেই গাজীপুর চৌরাস্তা, টঙ্গী, কোনাবাড়ী ও শ্রীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বাসের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। শ্রীপুরের মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা এলাকায় মাঝেমধ্যে যানজট তৈরি হচ্ছে। যানবাহন ধীরে ধীরে চলছে।
পোশাকশ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, ‘সারা বছর কাজের চাপ থাকে। ভোটের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারাটা জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই কষ্ট হলেও বাড়ি যাচ্ছি।’ আরেক শ্রমিক আব্দুল করিম বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে অনেক ভিড়, ভাড়াও বেশি। তারপরও ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি।’
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, ‘সাধারণত লম্বা ছুটিতে মহাসড়কে শত শত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবার অনেকেই নির্বাচনি দায়িত্বে থাকায় পুলিশ কম। স্বল্পসংখ্যক সদস্য দিয়েই চন্দ্রাসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।’
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষে ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি তিন দিন ছুটি থাকবে। পরে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।
