সুসংবাদ প্রতিদিন
বিএডিসির সানসাইন জাতের আলুর ফলনে খুশি কৃষক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সাজ্জাদ হোসেন, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

মুরাদনগর মাঠজুড়ে সোনালি রোদে চিকচিক করছে নতুন আলু। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বাংগরা বাজার থানার চাপিতলা গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। প্রচলিত জাতের বদলে নতুন জাতের আলু চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আদর্শ কৃষক গিয়াস উদ্দিন। বিএডিসি আলু-১ (সানসাইন) জাতের আবাদে তার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের জন্য এক নতুন দিশারি। ১ বিঘা জমিতে ৫৮ মণ কৃষক গিয়াস উদ্দিন জানান, আগে প্রথাগত জাতের আলু চাষ করে ফলন নিয়ে তাকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। তবে এবার উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি ১ বিঘা জমিতে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তি ও বিএডিসির উদ্ভাবিত ‘সানসাইন’ জাতের আলু আবাদ করেন। ফলন কাটার পর দেখা যায়, মাত্র ৩৩ শতক (১ বিঘা) জমি থেকেই তিনি পেয়েছেন ৫৮ মণ আলু।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, কৃষি অফিস থেকে পাওয়া বীজ ও সঠিক পরামর্শে আমার কপাল খুলেছে। বীজের মান ছিল চমৎকার, আর ফলনও হয়েছে চোখে পড়ার মতো। আগামীতে আমি আরও বড় পরিসরে এই আলু চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকারি সহায়তায় সফলতার হাতছানি এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত কৃষির ফল। ‘কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় নতুন জাত সম্প্রসারণ প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে গিয়াস উদ্দিনকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে: উন্নত মানের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার, বালাইনাশক এবং আনুষঙ্গিক খরচের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও নতুন জাতের উচ্চফলনশীল বীজের সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, এ বছর মুরাদনগর উপজেলায় মোট ১৭৬ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আমরা কৃষকদের শুধু উপকরণ সহায়তা দিচ্ছি না, বরং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করছি। সানসাইন জাতের এই ফলন প্রমাণ করে যে সঠিক বীজ ও পরিচর্যা পেলে আমাদের মাটি যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি ফলন দিতে সক্ষম।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সানসাইন জাতের আলু দেখতে যেমন আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল, তেমনি এটি খেতেও সুস্বাদু। এটি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় এবং বাজারে এর চাহিদা ও দাম সাধারণ আলুর চেয়ে বেশি। গিয়াস উদ্দিনের এই সাফল্য দেখে চাপিতলা গ্রামের আরও অনেক কৃষক এখন সানসাইন জাতের আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি খাতের এই ইতিবাচক পরিবর্তন মুরাদনগরকে আগামীতে আলু উৎপাদনের অন্যতম হাব হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
