সুসংবাদ প্রতিদিন

দিনাজপুরে সূর্যমুখীর আবাদ বেড়েছে

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার চতুর্থ বারের মতো চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী। সূর্যমুখী চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন সূর্যমুখী ফুলচাষিরা। অনেক কৃষক এবার সূর্যমুখীর ফুলের চাষবাদ করেছেন। জানা যায়, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চতুর্থ বারের মতো জেলার ১৩টি উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হচ্ছে। অনাবাদি জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। তাই এসব জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিন দেখা যায়, গাছে গাছে ফুটেছে সূর্যমুখী ফুল। এসব ফুলেই স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাগানগুলো সড়কের পাশে হওয়ায় দূর থেকে তাকালে যে কেউ আকৃষ্ট হতে বাধ্য। প্রকৃতি যেন হলুদ গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে কৃষকরা বলেন,আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখীর বীজ লাগিয়েছি। জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করা হয়েছে। এখন ফলন দেখে আমরা অনেক খুশি। তারা আরও বলেন, প্রতিদিনই অনেক দূর-দূরান্ত থেকে বাগান দেখার জন্য দর্শনার্থীরা আসেন। আরেক কৃষক বলেন, আমি জমিতে আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখীর বীজ লাগিয়েছি। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ও দিকনির্দেশনায় সূর্যমুখী চাষ শুরু করছি। এ মৌসুমে জমি থেকে (প্রায়) ২৪ মণের মতো বীজ পাব। বিরামপুর উপজেলার ফকির পাড়ার কৃষক জাকির হোসেন, কৃষানি মমতাজ বেগম, মির্জাপুরের মোজাম্মেল, জাহিদুল, ভগবতীপুরের হুয়ায়ুন করিব, চকহরিদাশ পুরের পিয়ারা বানুসহ অনেককেই সূর্যমুখী চাষ করছেন তিন বছর ধরে। উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম। সূর্যমুখী ফুলের বীজ নভেম্বর মাসের দিকে রোপণ করতে হয়। বীজ রোপণের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে চারা গজায়। এবার এই মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষকরা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে বীজ প্রণোদনা নিয়ে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

এছাড়াও দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ করতে এবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন বলেন- জেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। আমরা চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কৃষকরা সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হবেন বলে আশা করছি।