নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় সুষ্ঠু ভোটের সাফল্য ম্লান
জানাল ভয়েস নেটওয়ার্ক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলেও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা সেই সাফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ভয়েস নেটওয়ার্ক।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দীন। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও ইমপ্যার ইনিশিয়েটিভের সিইও এনায়েত হোসেন জাকারিয়া এবং রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর বুরহান উদ্দীন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি একরামুল হক সায়েম। এ সময় হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সিইও ইজাজুল ইসলাম ও বাকেরগঞ্জ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম হাওলাদারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নির্বাচন কেবল ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়াই নয়, এটি জনগণের আস্থা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের বৈধতার প্রতীক। এ কারণে নির্বাচন সংক্রান্ত আইন, বিধি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ভয়েস নেটওয়ার্ক। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।পর্যবেক্ষণের পরিধি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থার সমন্বয়ে মোট এক হাজার ৬৯ জন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ১৫০টি আসনের ৩ হাজার ৫৪১টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে এক হাজার ৮টি কেন্দ্রে ভোট গণনাও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ভোটের পরের সহিংসতায় দেশে ‘৭ মৃত্যু, আহত ৩৫০’: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে দেশের অন্তত ২৬ জেলায় সহিংসতা হওয়ার তথ্য দিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। এসব সহিংসতায় ৭ জনের মৃত্যু এবং ৩৫০ জনের আহত হওয়ার কথাও বলেছে বেসরকারি সংস্থাটি।
নির্বাচনের তিন দিন পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার সংবাদ বিজ্ঞিপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে ‘তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে সংস্থাটি।
তারা এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রের কাছে ‘দ্রুত ও কার্যকর’ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে; ‘দায়িত্বশীল ও জরুরি’ পদক্ষেপ নিতে বলেছে রাজনৈতিক দলগুলোকে।
সহিংসতায় প্রাণহানির তথ্যে এমএসএফ বলেছে, মুন্সিগঞ্জে জসিম উদ্দিন এবং বাগেরহাটে ওসমান সরদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হওয়ার কারণে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।
ময়মনসিংহে একজন শিশুকে তার বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী হওয়ায় সুপারি চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার তথ্যও এরমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে সংস্থাটি।
এছাড়া ভোলায় আব্দুর রহিম নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। আর লক্ষ্মীপুরে রিকশাচালক মো. সোহাগ মিজি নির্বাচনের রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর পরিত্যক্ত বালুর মাঠে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদরে ভোট দিয়ে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর পুলিশের গুলিতে দিনমজুর আব্দুল মোতালেব কাজী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানিয়েছে এমএসএফ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, নরসিংদী, লালমনিরহাট ও ঢাকার কেরানীগঞ্জে সংঘটিত হামলায় সাড়ে তিন শতাধিক রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
পাশাপাশি একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যালয় ও কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও’ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সহিংসতা আরও ‘উসকে দেওয়ার’ আশঙ্কা করছে এমএসএফ।
