চুলের যত্নে আমলকী

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

একটা সময় বয়স হলে চুলে পাক ধরে। এখন এ কথা আর খাটে না। স্ট্রেস, অনিদ্রা, পলিউশন, রাসায়নিক প্রসাধনীর ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের বদৌলতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এখন ‘সিলভার লাইনিং’, হেয়ার লসের সমস্যা খুবই সাধারণ একটা ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকা চুল ঢাকতে অনেকেই সালোয় গিয়ে হেয়ার ‘ডাই’ করে থাকে। আর তাতে সাময়িকভাবে পাকা চুল ঢাকলেও ক্ষতি হয় অনেক। চুল ঝরার পরিমাণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে টেক্সচার নষ্ট হয়। চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনি নিয়মিত আমলকী ব্যবহার করতে পারেন। কারণ চুলের যত্নে আমলকীর রস ব্যবহার নতুন নয়। আয়ুর্বেদেও এর কথা বলা আছে। এ বিষয়ে কেশচর্চা বিশেষজ্ঞরা বলছেন- চুলের যত্নে আমলকীর ব্যবহার অনেক পুরোনো। আয়ুর্বেদের সেই একই কথা বলা আছে। কারণ আমলকী যে ভিটামিন সির উৎস, এ কথা সবাই জানে।

এ ছাড়া এতে রয়েছে আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। আমলকী বেটে তা থেকে রস বের করে মাখলে স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ভালো হয়। হেয়ার ফলিকল মজবুত হয়। মেলানিন প্রোডাকশনও বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ব্যবহারে গ্রে হেয়ার, হেয়ার থিনিংয়ের সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এছাড়া মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে আমলকীর রস। চুল ঝরার পরিমাণও কমে এ টোটকায়। আবার অনেকেই সরাসরি আমলকীর রস স্ক্যাল্পে মাখেন। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। সে কারণে পরিমাণমতো পানি ও একমুঠো আমলকী ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। পানির রং কালচে হতে শুরু করলে গ্যাস বন্ধ করে রেখে দিন বেশ কিছুক্ষণ। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে ছেঁকে আমলকীগুলো ফেলে দিন।

এবার শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করার পর, একেবারে শেষ পর্যায়ে আমলকী ফোটানো পানি দিয়ে চুলটা ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। তারপর আর চুলে পানি দেবেন না। কয়েক সপ্তাহ এ টোটকা ব্যবহার করে দেখুন, নিজেই এর তফাত বুঝতে পারবেন। আর যাদের স্ক্যাল্প ভীষণ ড্রাই, তারা নারিকেল তেলের সঙ্গে রোদে শুকানো আমলকী ফুটিয়ে নিয়ে সেই তেলটি মাখতে পারেন। সেনসিটিভ বা তৈলাক্ত স্ক্যাল্প হলে তেল না মাখাই ভালো।

কেশচর্চা বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ডায়েটের দিকেও নজর দিতে হবে। অন্যান্য ফলের সঙ্গে প্রতিদিন একটি করে আমলকী খেতে পারলেও ভালো হয়। হজম সংক্রান্ত সমস্যা, অনিদ্রা ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পর্যাপ্ত পানিও খেতে হবে। অতিরিক্ত লবণ-চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে যত দূরে থাকা যায়, ততই মঙ্গল।