এমপিদের গাড়ি প্লট না নেওয়ার ঘোষণায় সাধুবাদ টিআইবির

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিষয়টিকে বহুল প্রতীক্ষিত, সুচিন্তিত, সময়োপযোগী ও আশা-জাগানিয়া বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, এ ঘোষণায় দীর্ঘদিন লালিত কর্তৃত্ববাদী ও বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার চর্চার অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে, এ পদক্ষেপের পরিপূর্ণ ও টেকসই সুফল অর্জনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা যেন ভুলে না যাই যে, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণরায়ের মৌলিক অভীষ্ট এমন এক জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ- যা হবে সুশাসিত, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। এক্ষেত্রে বিপুল জনরায় নিয়ে সদ্য ক্ষমতাসীন জোট তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রচারণাসহ বিভিন্নভাবে জনগণের কাছে প্রদত্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ যতগুলো অঙ্গীকার করেছে, তার কার্যকর ও ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ।

তিনি বলেন, সরকারি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা ও প্রয়াস থাকলেও কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রদত্ত কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতিই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তেমনই সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের বাস্তব সুফলও জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত-মাত্রায় পৌঁছাবে না। বরং উন্নয়ন প্রকল্প ও ক্রয় খাতসহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বহুমুখী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণের পাশাপাশি ঘুষ ও অন্যান্য অবৈধ লেনদেন, করফাঁকি ও অর্থপাচারসহ চৌর্যতান্ত্রিক অনাচার অব্যাহত থাকার ঝুঁকি প্রসারিত হবে।

সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে সংসদ সদস্য ও সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী বাৎসরিক নবায়নযোগ্যভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ নিশ্চিত দাবি জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকার ও জাতীয় সংসদের দুর্নীতিবিরোধী প্রত্যয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জুলাই সনদের সম্পূর্ণ দ্বিমতহীন ৭৪ ধারা অনুযায়ী সব জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী বাৎসরিকভিত্তিতে হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতাসহ অনতিবিলম্বে ওয়েবসাইটে প্রকাশের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, এই চর্চা সব খাত ও পর্যায়ের সব সরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য জনবল- যাদের বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হয়, তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য করতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার সুচিন্তিত ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করছি। এটি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নবগঠিত সরকারের প্রতি জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে, রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনি ইশতেহারে ‘সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টচক্রের মতো ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে’- মর্মে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা-ও যেন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এই প্রত্যাশা করছি। এক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে সরকারি জোটসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও সংসদের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সব রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও খাতের দায়িত্ব, তথা সার্বিকভাবে জনগণের ভূমিকা পালনের সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।