সুসংবাদ প্রতিদিন
দিনাজপুরে রসুনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

জেলার প্রতিটি উপজেলায় রসুন আবাদ হলেও। সাদা সোনাখ্যাত রসুন খানসামা, চিরিরবন্দর ও বীরগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। রসুনের ফলন দেখে এখন অন্যান্য উপজেলাতেও এর আবাদ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ব্যাপক উৎপাদনের কারণে এই অঞ্চলের রসুন জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। গতবছর আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় কৃষক এবার বেশি পরিমাণ রসুন আবাদ করেছে। ফিতা কাটা অর্থাৎ গাছ থেকে রসুন কেটে নেওয়া আগাম জাতের এসব রসুনের গাছ এখন মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে। ফিতাকাটা এসব রসুন উঠার সময় গ্রামের মহিলাদের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। সকাল থেকে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা খেতে বসেই বঁটি দিয়ে গাছ থেকে রসুন কেটে থাকে। ১৫ টাকা ডালি হিসাবে মজুরী’র বিনিময়ে বাড়ির কাজের ফাঁকে তারা কাজ করে বাড়তি আয় করে থাকে।
আগাম জাতের এসব রসুন এরইমধ্যেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে। দিনভর কেটে বস্তায় করে বাজারে নিয়ে আসছে কৃষক। এবার ভালো ফলন হয়েছে কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। তারা বলছেন, গত বছর প্রতিকেজি রসুন এ সময় ৫০-৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। তখন লাভের মুখ দেখেছে। এবার হাট-বাজারে নতুন রসুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাভ বেশি পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি। খানসামা উপজেলার কাচিনিয়া বাজার থেকে সপ্তাহে দুদিন শত শত টন রসুন দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। ফড়িয়া বা আড়তদারদের মতে মৌসুমের কথা বিবেচনায় রেখে আগে থেকেই আমদানি বন্ধ করলে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যাবে। একইসঙ্গে সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের। এটি হলে সঠিক সময় কৃষকরা এই রসুন বিক্রি করতে পারবে এবং দামও পাবে। খানসামা উপজেলার বাসিন্দা সফিউল আযম বলেন, সংরক্ষণের পাশাপাশি পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় কৃষকদের উৎপাদিত রসুনের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা হলে এর আবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং রসুনে দেশ স্বনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানি করাও যাবে।
এদিকে দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন বলেন, রসুন লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন এই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দিনাজপুর জেলায় মোট ৩ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে রসুনের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকল এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৭ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। অতিরিক্ত হিসেবে ৫২ হেক্টর জমিতে চাষ বেশি হয়েছে। যা থেকে প্রতি উৎপাদন হবে প্রায় ৫০হাজার টন রসুন।
