ইফতারে পেঁপে খাবেন না যারা
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

ইফতারের টেবিলে ভাজাপোড়া, শরবত ও বিভিন্ন ফলের পাশাপাশি অনেকেই পাকা পেঁপে রাখেন। পেঁপে ভিটামিন এ ও সি, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য ফল। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর পরিমিত পেঁপে হজমে সহায়ক হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে পেঁপে সমান উপকারী নয়- কিছু মানুষের জন্য এটি ঝুঁকির কারণও হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণ পাকা পেঁপে অল্প পরিমাণে খাওয়া সাধারণত নিরাপদ ধরা হলেও কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে এড়িয়ে চলা উচিত। এতে থাকা ল্যাটেক্স ও প্যাপেইন এনজাইম জরায়ুতে সংকোচন সৃষ্টি করতে পারে, যা গর্ভপাত বা অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
যাদের ল্যাটেক্স বা রাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের পেঁপে খেলে ‘ওরাল অ্যালার্জি সিনড্রোম’ হতে পারে। এতে ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া, চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে অ্যানাফাইল্যাকটিক শকের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তাই অ্যালার্জি থাকলে পেঁপে খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পেঁপে খুব বেশি মিষ্টি না হলেও বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন আধা কাপ বা ছোট একটি বাটির বেশি না খাওয়াই ভালো। এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ যেমন ওয়ারফারিন সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পেঁপে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পেঁপেতে হজমে সহায়ক এনজাইম থাকলেও অতিরিক্ত খেলে উল্টো গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দুধ, দই, লেবুজাতীয় ফল বা বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবারের সঙ্গে পেঁপে খেলে অনেকের হজমে সমস্যা হয়।
ইফতারে যদি বেশি ভাজাপোড়া বা ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তাহলে পেঁপে না খাওয়াই ভালো। ঝাল খাবারের সঙ্গে পেঁপে যোগ হলে হজমের সমস্যা বাড়তে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ১০০-১৫০ গ্রাম বা আধা কাপ পাকা পেঁপে যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের থাইরয়েড সমস্যা, কিডনিতে পাথর বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেঁপে না খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে পেঁপে একটি উপকারী ফল হলেও সঠিক পরিমাণে এবং শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়াই নিরাপদ। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার মূল উপায়।
