সুসংবাদ প্রতিদিন

সজনে ফুল থেকে মধু উৎপাদনে সফলতা

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরে সজনে ফুল থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন ৪ খামারি। প্রথমবার সজনে ফুল থেকে মধু হারভেস্ট করে তারা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে হর্টিকালচার সেন্টারের পাশে সজিনা বাগানে গিয়ে মধু সংগ্রহের এ দৃশ্য দেখা যায়। প্রথম হারভেস্টে তারা ১৫০ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। জানা যায়, সজনে ফুলের মধুকে সুস্বাদু, মিষ্টি, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন বলে জানিয়েছেন মৌমাছি উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা। এ ছাড়া সজিনা পাতা, ফুল ও ডাটা বাঙালির প্রিয় সবজি। এ সবজির আছে অনেক ঔষধিগুণ। সজনে চাষে খুব একটা পুঁজি বা পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, পরিত্যক্ত জায়গা, রাস্তার ধারে, ক্ষেতের আইলে সহজেই লাগানো যায় এ গাছ। পাতা, ফুল ও ফল প্রচুর উৎপাদন হয়। তার সঙ্গে নতুন যুক্ত হলো মধু উৎপাদন। তবে দিনাজপুরে কী পরিমাণ সজনে গাছ আছে, কত হেক্টর জমিতে সজিনা চাষ হয়, কী পরিমাণ সজিনা উৎপাদন হয়, এর কোনো পরিসংখ্যান কৃষি সম্প্রসারণ কেন্দ্রে নেই। তবে দিনাজপুরে এর উৎপাদন ব্যাপক। ব্যাপারিরা বলছেন, দিনাজপুরের সজনে জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় যায়। কিন্তু এর ফুল কোনো কাজে আসছিল না।

এর ফুলকে পুঁজি করে মধু সংগ্রহের কাজে লাগাতে গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে মৌবক্স স্থাপন করা হয় দিনাজপুরের খামার বাড়ির সজিনা গাছের নিচে। কতিপয় যুবক ওই মৌবক্সগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সে কারণে ফলাফল পাওয়া যায়নি। একই বছর খানসামা উপজেলার মৌখামারি হিরা লাল রায় সদর উপজেলার সদরপুরে পরীক্ষামূলকভাবে সজিনা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য মৌবক্স স্থাপন করে সফলতার মুখ দেখতে পান। তিনি ৫ কেজি মধু সংগ্রহ করেন।

মধুর গুণগত মান ভালো হওয়ায় এবং চাহিদা থাকায় আরও ৩ মৌচাষিকে সঙ্গে নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহের জন্য ৭৫টি মৌবক্স স্থাপন করেন। হিরা লাল রায়, রিফাত ইসলাম, আরিফ ও সাগর ২২ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি মধু হারভেস্ট করেন। প্রথম হারভেস্টে তারা ১৫০ কেজি মধু পেয়েছেন। এই ফুলে তারা আরও একবার হারভেস্ট করতে পারবেন। উৎপাদিত মধুর আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা। বাজারে এই মধু ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

মৌখামারি হিরা লাল রায় বলেন, এবার সব খরচ বাদ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে। তবে আগামীতে নতুন নতুন বাগান দেখে সজিনা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অন্য খামারিদের সজিনা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে আগ্রহী করে তুলব।

রিফাত ইসলাম বলেন, দিনাজপুরে সাধারণত লিচু, সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা, শসা ও কুমড়া ফুল থেকে মধু সংগ্রহ হয়। দিনাজপুরে এবারই প্রথম আমরা সজিনা ফুলের মধু সংগ্রহে সফলতা পেয়েছি। এই নতুন উৎস মৌখামারিরা আগামীতে কাজে লাগাবে বলে আশা করছি।’

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ছাত্র আজমাইন ফাহি বলেন, আমি মধু নিয়ে গবেষণা করছি। মধুর যে গ্রেড আছে; সেদিক থেকে সজিনা ফুলের মধুর গ্রেড ভালো। এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী।