‘স্যার আমরা এগুলো করেই চলি’- কুবি শিক্ষককে অপহরণকারী
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেলকে অপহরণ করে মারধর ও লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। আব্দুর রাজ্জাক সোহেল জানান, তিনি দুপুরে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে কোটবাড়ি বিশ্বরোডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার এসে তাকে জিজ্ঞাসা করে তিনি উবার কল দিয়েছেন কি না। তিনি ‘না’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িতে থাকা কয়েকজন তাকে জোর করে টেনে গাড়ির ভেতরে তুলে নেয় এবং হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে। তিনি আরও জানান, গাড়িটি ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা তাকে দেশিয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায়, যাতে তিনি কোনো ধরনের চিৎকার করতে না পারেন। পরে তারা তার অ্যান্ড্রয়েড ফোন, মানিব্যাগে থাকা প্রায় ১৫ হাজার টাকা, বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে আঘাতও করা হয়। পরে তার এটিএম কার্ডের পিন নাম্বার জেনে দাউদকান্দির হাবিব মার্কেটের ভেতরের একটি এটিএম বুথ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা তুলে নেয় ছিনতাইকারীরা।
সোহেল জানান, ছিনতাইকারীর সংখ্যা ছিল চারজন এবং তাদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তাদের আচরণ ও শরীর থেকে আসা গন্ধে মনে হয়েছে তারা নেশাগ্রস্ত ছিল। তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার পর ছিনতাইকারীরা তার পরিচয় জানতে পেরে কিছুটা আচরণ পরিবর্তন করে। তারা তার ফোনটি ফেরত দেয় এবং ভাড়ার জন্য কিছু টাকা দিয়ে বলে, ‘স্যার, আমরা এগুলো করেই চলি। এর চেয়ে বেশি সম্মান আপনাকে দেখাতে পারব না। আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।’ এরপর দাউদকান্দির একটি জনমানবহীন স্থানে তাকে নামিয়ে দিয়ে তারা ঢাকামুখী সড়ক ধরে চলে যায়। তবে যাওয়ার আগে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ফরম্যাট করে দেয়, যাতে কোনো আলামত না থাকে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আব্দুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। আমি চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কারো সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।
তিনি জানান, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে বিশ্বরোড এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
