সুসংবাদ প্রতিদিন

বিএডিসির সানসাইন জাতের আলু চাষে সাফল্য

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইব্রাহীম খলিল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএডিসি আলু-১ বা সানসাইন জাতের আলু উৎপাদন প্রদর্শনী কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উন্নত জাতের এই আলুর আকর্ষণীয় রং, সমান আকার ও উচ্চফলনের কারণে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার বিটঘর, পৌরসভা, ইব্রাহিমপুর ও নাটঘর ইউনিয়নে মোট ৫টি স্থানে ৫ বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আলু উৎপাদন প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ২৮৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নতুন জাতের ফলন পার্থক্য বিশ্লেষণের জন্য ৫ বিঘা জমিতে সানসাইন জাত ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য জাতের তুলনায় এ আলুর উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে।

প্রদর্শনী প্লটে হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৫ থেকে ৪০ মেট্রিক টন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। শতাংশ প্রতি গড় ফলন প্রায় ৩ মণ। সানসাইন জাতটি স্বল্পমেয়াদি- গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই আহরণযোগ্য হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত বাজারজাত করতে পারছেন। এই জাতের আলুর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে উজ্জ্বল হলুদাভ রং, মসৃণ চামড়া এবং প্রায় সমান ও মাঝারি আকার। একই সাইজের হওয়ায় বাজারজাতকরণ সহজ হয়। এটি বিভিন্ন আবহাওয়ার জন্য উপযোগী এবং ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ৪-৫ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর ব্লকের কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমি আগে ডায়মন্ট আলু আবাদ করতাম। এবার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে সানসাইন জাতের আলু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে এর চাহিদা ভালো থাকবে বলে আশা করছি।

ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজা বেগম জানান, ‘উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার, বীজ ও পরামর্শ নিয়ে এক বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আলু আবাদ করেছি। ৩৩ শতকে প্রায় ১০০ মণের বেশি আলু পেয়েছি। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় এই জাতটি লাভজনক মনে হয়েছে।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, বিএডিসি আলু-১ বা সানসাইন জাতের আলুর গড় জীবনকাল ৬৫ থেকে ৭০ দিন। এটি একটি স্বল্পমেয়াদি উচ্চফলনশীল সুপার ভ্যারাইটি। শতাংশপ্রতি গড় ফলন ৩ মণেরও বেশি। ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় আগামী বছর এ জাতের আবাদ আরও বাড়ানো হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, নভেম্বর মাস (মধ্য-কার্তিক থেকে মধ্য-অগ্রহায়ণ) এ জাতের রোপণের উপযুক্ত সময়। বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) প্রায় ২০০-২১০ কেজি বীজ আলু প্রয়োজন হয়। বীজ রোপণের আগে শোধন ও অঙ্কুরিত বীজ ব্যবহার করলে ফলন আরও বৃদ্ধি পায়।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বাড়াতে এ ধরনের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।