‘প্রসিকিউটর টাকা চাওয়ার ঘটনাকে হালকাভাবে নিচ্ছি না’

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের জামিনের বিনিময়ে কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাটি মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এর তথ্যানুসন্ধানে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন তারা।

গতকাল বুধবার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’র চার সদস্য বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটির চারজন আজকে আমরা একত্রে বসেছি। আমাদের এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে আমাদের প্রসিকিউশন টিমের কোনো সদস্য বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিবর্গ যদি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকেন, সেই বিষয়টির আমরা তথ্য উদ্ঘাটন করব। যদি তাদের বিরুদ্ধে সাবস্টেন্টিভ (বাস্তবভিত্তিক) কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার গ্রেপ্তার আসামি চট্টগ্রাম-৬ আসনে (রাউজান) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন। প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার গত সোমবার পদত্যাগ করেন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান সাইমুম তালুকদার। ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হলেও ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পাওয়ার আগে তার মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব কম ছিল। এদিকে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদকের পদে ছিলেন সাইমুম তালুকদার। গুরুতর আর্থিক দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠায় তাকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।