বাগেরহাটে বাসের সঙ্গে মাইক্রোর সংঘর্ষে নিহত ১৩
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর- কনেসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং নয়জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) মামা আবু তাহের বলেন, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ভাগনির (মার্জিয়া) বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া ও নানী মারা গেছে। আর বরসহ মারা গেছেন ৮ জন। মোংলা পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম মুঠোফোনে বলেন, ‘মোংলা পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়েছিল। তিনি ছেলে-পুত্রবধূ নিয়ে মোংলায় বাড়িতে আসছিলেন। পথে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে- পুত্রবধূ, মেয়েসহ ৮ জন, মাইক্রোবাসের চালক ও কনে পক্ষের লোকসহ মোট ১৩ জন মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে আটজনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর দুজন পুরুষ। আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তিনিও মারা গেছেন।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, ?‘হাসপাতালে এক শিশুসহ চারজনকে নিয়ে আসা হয়। এখানে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ হাসপাতালে আছে।’
