সুসংবাদ প্রতিদিন

মাগুরায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. মুসাফির নজরুল, মাগুরা

চলতি মৌসুমে মাগুরার শ্রীপুরে লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। আবার অনেকে শেষ সময়ে পেঁয়াজের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পেঁয়াজের ফলনও ভাল হবে। এ বছর পেঁয়াজের বীজের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একারণে পেঁয়াজের বর্তমান বাজার মূল্য কম থাকায় এ মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হলে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়বে অনেক কৃষক হতাশা প্রকাশ করেছেন।

মাগুরা জেলার চার উপজেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় শ্রীপুর উপজেলায়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৮৯১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। যার সিংহভাগই চাষ হয়েছে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নে। এ বছর এ উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪৬ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে।

দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরই কৃষকরা পেঁয়াজ খেত থেকে উত্তোলন শুরু করবে। উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে পেঁয়াজ চাষে আরও অনেকে আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন কৃষকরা।

শ্রীপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক মুন্সি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ বছর তিনি প্রায় ২২০ শতক জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। পেঁয়াজের বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচও হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বিঘা প্রতি পেঁয়াজের ফলন আশা করছেন ৬০ মণ থেকে ৭০ মণ। কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি। বাজার মূল্য কমপক্ষে দেড় হাজার টাকা না হলে খরচের টাকাও উঠবে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ন কবির জানান, পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন।