সুসংবাদ প্রতিদিন

রজনীগন্ধ্যা ফুলের বাণিজ্যিক চাষে লাভবান কৃষক

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শরীফ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা

সুগন্ধি হিসেবে রজনীগন্ধ্যা ফুলের বেশ সুনাম রয়েছে। এটি রাতে ফুটে সুগন্ধি ছড়ায় বলে রজনীগন্ধ্যা নামকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে রজনীগন্ধ্যা ফুল একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক চাষ। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে রজনীগন্ধ্যা ফুলচাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক চাষি। এই ফুল দীর্ঘ সময়ের জন্য সৌরভ দিতে পারে যার কারণে যেকোনো রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়সহ সকল অনুষ্ঠানে এই ফুলের বেশ কদর রয়েছে। যার কারণে বাজারে রজনীগন্ধ্যা ফুলের বেশ চাহিদা রয়েছে।

জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে ৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে রজনীগন্ধ্যা ফুলচাষ করে লাভবান হচ্ছেন আক্তারুজ্জামান যুদ্ধ।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, রজনীগন্ধার বাগান সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে। ফুলের মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। ফুলগাছ পরিচর্যা ও দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মহর আলী জানান, রজনীগন্ধ্যা ফুল চাষে খরচ অনেক কম। এটিতে খুব বেশি সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। একবার লাগালে সারা বছর ফুল পাওয়া যায়। রজনীগন্ধ্যার স্টিক তুলে ফেললে সেখান থেকে আবার নতুন স্টিক গজায়। মাত্র দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ৬ মাসে ৪ লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রি করা হয়েছে। এই বিক্রি সারা বছর চলবে।

তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে স্টিক তুলে বিক্রি করা হয়েছে। এখন রজনীগন্ধ্যা ফুলের পাপড়ি বা ঝরা তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। স্টিকের চেয়ে ঝরা ফুলের চাহিদা বেশি ও লাভজনক। প্রথম দিকে স্টিক ১৫-১৮ টাকা প্রতি পিচ বিক্রি করা হয়েছে। ঝরা ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন রমজান মাসে ফুলের চাহিদা ও দাম কম যার কারণে ফুল তোলা বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের পর থেকে আবার তোলা হবে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, রজনীগন্ধ্যা ফুল চাষ করে অল্প সময়ে অধিক লাভ করা যায়। এই ফুল চাষে উৎপাদন খরচ অনেক কম। এটি সারা বছর বিক্রি করা যায়। সুগন্ধি ছড়ানোর জন্য অনেকেই বসতবাড়ি ও অফিসে ফুলের স্টিক সংরক্ষণ করে রাখে। তাছাড়া যেকোনো অনুষ্ঠানে মালা, পুষ্পস্তবক, বেনী ও বাসরঘর সাজাতে এই ফুলের বেশ কদর রয়েছে। জীবননগর উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, গাঁদা, গোলাপ ও চন্দ্রমল্লিকা ফুল চাষ হয়েছে। আগামীতে ফুলের চাষ আরও বৃদ্ধি করতে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।