হেডফোন ও ইয়ারবাড কী
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

প্রযুক্তির এই যুগে গান শোনা বা কথা বলার জন্য আমরা বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করি। তবে হেডফোন এবং ইয়ারবাড- এই দুইয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। আপনার ব্যবহারের ধরন এবং আরামের ওপর ভিত্তি করে এই দুইয়ের মধ্যে সঠিকটি বেছে নেওয়া জরুরি। ডিজাইনের দিক থেকে এই দুই ডিভাইসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায়। ইয়ারবাডগুলো আকারে অত্যন্ত ছোট এবং সরাসরি কানের ছিদ্রের ভেতরে বসানো হয়। এগুলো একটি ছোট চার্জিং কেসের ভেতর থাকে, যা পকেটে খুব সহজেই বহন করা যায়। অন্যদিকে, হেডফোন আকারে অনেক বড় হয় এবং এতে একটি ব্যান্ড থাকে যা মাথার ওপর দিয়ে দুই কানকে ঢেকে রাখে। এগুলো সাধারণত ব্যাগে বহন করতে হয়।
শব্দের গভীরতা বা ‘বেস’ (Bass) পাওয়ার ক্ষেত্রে হেডফোন সাধারণত এগিয়ে থাকে। হেডফোনের ভেতরে বড় স্পিকার বা ড্রাইভার থাকে, যা শব্দের প্রতিটি ডিটেইল নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। এছাড়া ‘ওভার-ইয়ার’ হেডফোনগুলো পুরো কান ঢেকে ফেলে বলে বাইরের অপ্রয়োজনীয় শব্দ প্রাকৃতিকভাবেই আটকে দেয়। অন্যদিকে, ইয়ারবাড আকারে ছোট হওয়ায় এতে বড় ড্রাইভার ব্যবহার করা সম্ভব হয় না, তবে উন্নত মানের ইয়ারবাডগুলো এখন বেশ ভালো সাউন্ড আউটপুট দেয়।
আরামের বিষয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। অনেকক্ষণ কানের ভেতরে সিলিকন বা প্লাস্টিকের ইয়ারবাড দিয়ে রাখলে অনেকের কানে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। যারা জিম করেন বা দৌড়ান, তাদের জন্য ইয়ারবাড সুবিধাজনক কারণ এটি কান থেকে সহজে পড়ে যায় না। কিন্তু যারা দীর্ঘ সময় অফিসে বা বাসায় বসে কাজ করেন, তাদের জন্য হেডফোনের নরম কুশন বেশি আরামদায়ক। তবে গরমের দিনে দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারে কান কিছুটা ঘেমে যেতে পারে।
আকারে বড় হওয়ার কারণে হেডফোনে বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা যায়। ফলে একবার চার্জ দিলে অনেক হেডফোন ৩০ থেকে ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। ইয়ারবাডের ব্যাটারি ছোট হওয়ায় এটি একনাগাড়ে ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেয়। তবে এর সুবিধা হলো, চার্জ ফুরিয়ে গেলে পকেটে থাকা কেসের ভেতরে রাখলেই এটি আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হতে শুরু করে। আপনি যদি যাতায়াতের পথে বা হালকা শরীরচর্চার সময় ব্যবহারের জন্য কিছু খোঁজেন, তবে ইয়ারবাড আপনার জন্য সেরা পছন্দ। কিন্তু আপনি যদি একজন গেমার হন, ভিডিও এডিটিং করেন কিংবা ঘরে বসে আয়েশ করে উচ্চমানের মিউজিক শুনতে চান, তবে হেডফোন ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
