সুসংবাদ প্রতিদিন

বেড পদ্ধতিতে পটোল চাষে সাফল্য

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এএইচএম আরিফ, কুষ্টিয়া

বৃহত্তর রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলায় ব্যাপকভাবে পটোলের চাষ করা হয়। কুষ্টিয়ায় বেড় পদ্ধতিতে পটোল চাষে জাহাঙ্গীর আলমের অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। জাহাঙ্গীর আলম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। চলতি মৌসুমে বেড় পদ্ধতিতে পটোল চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। তার মতে এই পদ্ধতিতে পটোল চাষে ফলন বেশি লাভও বেশি। জাহাঙ্গীরের দেখাদেখি এখন অনেকেই পটোল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

জানা যায়, কয়েক বছর আগেও কৃষি কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। তবুও তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে পটোল চাষবিষয়ক পরামর্শ এবং পটোল চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। নিজের এক বিঘা জমিতে পটোল চাষ করে অভাবের সংসারে এনেছে স্বচ্ছলতা। কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন তার ভাতিজা তিতুমীর ও রাজিবুলকে সহযোগী হিসেবে সব সময়ই তার পাশে রাখেন। কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটোলের দুটি জাত আবিষ্কার করেছে। জাত দুটো উচ্চ ফলনশীল ও রোগবালাই সহ্য করতে পারে সেগুলো হলো- ‘বারি পটোল-১’ ও ‘বারি পটোল-২’। হেক্টরপ্রতি ফলন ৩০ থেকে ৩৮ টন। এটি কাণ্ড এবং টিউবারের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। শাখা কলমের ক্ষেত্রে পরিপক্ব কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। এদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- কাণ্ড মরে গেলেও শিকড় জীবিত থাকে। ফলে এই শিকড় থেকেই আবার গাছ জন্মে। রোপণের আগে পটলের শিকড় গজিয়ে নিলে বেশি ভালো হয়। উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ু পটোল চাষের জন্য বেশি তাপমাত্রা ও সূর্যালোকের প্রয়োজন। বন্যামুক্ত ও পানি জমে না এমন বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ মাটি পটোল চাষের জন্য ভালো। নদীর তীরে পলিযুক্ত মাটিতেও পটোল চাষ করা যায়। গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর তার দুই ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে পটোল তোলায় ব্যস্ত। আরও একজন শ্রমিক পটোলখেত পরিচর্যা করছেন। পটোল চাষি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার এক বিঘা জমিতে পটোল চাষে শ্রেণিভেদে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদিত পটোল বিক্রি করে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার টাকা বিক্রি করেছে। সপ্তাহে দুই দিন প্রায় ৪ মণ পটোল তোলা হয় খেত থেকে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই পটোল নিয়ে যায়। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেড পদ্ধতিতে পটোল চাষ করলে ফলন ভালো হয় এবং বর্ষাকালে খেত নষ্ট হয় না। সাধারণত একটি বেড ১.০-১.৫ মিটার চওড়া হয়। বেডের মাঝামাঝি এক মিটার থেকে দেড় মিটার বা দু’হাত থেকে তিন হাত পর পর মাদায় চারা রোপণ করতে হয়। তিনি বলেন, এবার মিরপুর উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে পটোলের চাষাবাদ করা হয়েছে। আমরা কৃষকদের পটোল চাষের ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কৃষক জাহাঙ্গীর বারি পটোল-১ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আশা করছি, অন্য কৃষকরা তা দেখে আগ্রহী হবেন।