স্বাধীনতা দিবসে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন বার্তা
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে পাকিস্তান। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ অভিনন্দন জানায়। বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণকে তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছে। বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তান বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে এবং দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এছাড়াও ভারত, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও চীনা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। গত বুধবার এক বার্তায় এ কথা জানায় ঢাকার ভারতের হাইকমিশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বার্তায় ভারতের রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ভারতের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভারত ও বাংলাদেশ একটি অভিন্ন ইতিহাস, সুগভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ ও দীর্ঘস্থায়ী ভাষাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে আবদ্ধ; যা আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের ভিত্তিটিকে রূপদান করে। বছরের পর বছর ধরে আমরা সংযুক্তি, বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ ও শিক্ষাসহ প্রধান খাতগুলোতে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে সীমান্তের উভয় পাশের নাগরিকদের কাছে বাস্তবিক সুফল পৌঁছে দিয়েছি। ভারত আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। অনুগ্রহ করে পুনরায় আমার সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভকামনা গ্রহণ করুন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর যখন বাংলাদেশ তার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু করছে, ঠিক তখনই এ উদযাপনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কো রুবিও আরও বলেন, ‘মুক্ত, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্বপ্নে বিশ্বাসী বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। আমরা উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করি।’ তিনি যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ যখন এ ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপন করছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিনন্দন : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। চিঠিতে রাজা চার্লস বলেন, জাতীয় দিবসের এই আনন্দময় মুহূর্তে আমি ও আমার স্ত্রী রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে আন্তরিক অভিনন্দন জানা”িছ। আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারত্বের কথা স্মরণ করছি; যা আমাদের কমনওয়েলথকে সংজ্ঞায়িত করে এমন অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
ব্রিটেনের রাজা বলেন, যুক্তরাজ্যজুড়ে ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন। তারা আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, আমাদের সমাজকে সমৃদ্ধ করছেন এবং আমাদের দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং সুযোগ তৈরিতে আমাদের কমনওয়েলথ পরিবার যে ভূমিকা পালন করে, তার জন্য আমি গভীরভাবে গর্বিত। কমনওয়েলথের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য এবং এর তরুণ প্রজন্মের উদ্যম আশা ও অগ্রগতির অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। এই বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে, আমাদের সম্মিলিত শক্তি ও ঐক্য আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাজা চার্লস বলেন, আমি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে আমাদের দেশগুলোর একত্রিত হওয়ার সুযোগের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। সেখানে আমরা আমাদের যৌথ অঙ্গীকারগুলো পুনর্ব্যক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি কর্মপš’া নির্ধারণ করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু কার্যক্রমে আমাদের সহযোগিতা আমাদের সম্পর্কের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হিসেবেই রয়েছে এবং আমি ¯ি’তি¯’াপকতা তৈরিতে ও টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় নেতৃত্বের প্রশংসা করি। কারণ, আমরা একসঙ্গে আমাদের পরিবেশ রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছি। আমার স্ত্রী ও আমি আপনার এবং বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য আগামী বছরটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হোক এই কামনায় আমাদের আন্তরিক শুভে”ছা জানা”িছ।
স্বাধীনতা দিবসে চীনা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা এই অভিনন্দন বার্তা পাঠান। চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং অভিনন্দন বার্তায় বলেন, চীন ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু এবং ভালো অংশীদার। দুই দেশ একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার সঙ্গে আচরণ করেছে, পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা করেছে এবং রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মডেল ¯’াপন করেছে। শি জানান, তিনি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক আ¯’া গভীর করতে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে এবং চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের ধারাবাহিক উন্নয়নে কাজ করতে প্রস্তত। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
