চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ঝুঁকি

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  প্রযুক্তি ডেস্ক

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) টুল এখন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পড়াশোনা থেকে শুরু করে জটিল কোডিং বা কনটেন্ট রাইটিং, সব ক্ষেত্রেই চ্যাটজিপিটির মতো টুলের ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সময় ৫টি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করলে ব্যবহারকারীরা পড়তে পারেন চরম বিপদে। এমনকি ফাঁস হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও।

নিরাপদ থাকতে যে ৫ ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলা জরুরি-

ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য প্রদান : কখনও চ্যাটজিপিটির কাছে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, ক্রেডিট কার্ড নম্বর, পাসওয়ার্ড বা ওটিপির (OTP) মতো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করবেন না। মনে রাখবেন, এআই টুলগুলো আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজেকে আরও উন্নত করে, তাই এই তথ্যগুলো সার্ভারে জমা থেকে যাওয়ার ফলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

বেআইনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড : হ্যাকিং, জালিয়াতি বা যেকোনো ধরনের অবৈধ কাজ সংক্রান্ত কোনো পরামর্শ বা তথ্য এআই-এর কাছে চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এ ধরনের প্রশ্ন শুধু নীতিবিরুদ্ধই নয়, বরং আপনাকে গুরুতর আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে। কারণ এআই প্ল্যাটফর্মগুলো সাইবার অপরাধ রোধে কঠোর নজরদারি চালায়।

গুরুতর চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ : স্বাস্থ্য বিষয়ে চ্যাটজিপিটি সাধারণ তথ্য দিতে পারলেও জীবন-মরণ বা জটিল রোগের ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা আত্মঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এআই-এর দেওয়া ওষুধের তালিকা বা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান গ্রহণ করলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির সম্ভাবনা থাকে।

ভুয়া খবর বা গুজব ছড়ানো : কোনো মিথ্যা তথ্য তৈরি বা বিভ্রান্তিকর খবর প্রচারের উদ্দেশে এআই ব্যবহার করা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এর মাধ্যমে গুজব ছড়ালে আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।

অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন : কারও ফোন নম্বর, ঠিকানা বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো তথ্য জানতে চাওয়া অনৈতিক এবং সাইবার আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। এআই-এর মাধ্যমে অন্যের প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা একজন দায়িত্বশীল ব্যবহারকারীর পরিচয়।

প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করতে এসেছে, তবে এর ব্যবহার হতে হবে সচেতন ও দায়িত্বশীল। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সময় আপনি কী তথ্য দিচ্ছেন এবং কী প্রশ্ন করছেন, সে বিষয়ে সর্বদা সজাগ থাকাই হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।