তন্ত্রে-মন্ত্রে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া অমুক্তিযোদ্ধাদের ধরতে কাজ করছি : মন্ত্রী
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলে তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখানো অমুক্তিযোদ্ধাদের ধরতে সরকার কাজ করছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আহমেদ আযম খান বলেন, ‘অমুক্তিযোদ্ধা; যারা বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যেটা সংসদ সদস্য আজকে এখানে বলেছেন; আমরা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছি। এ ধরনের অমুক্তিযোদ্ধা; যারা তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সন্নিবেশিত হয়েছেন, তাদের সন্তানদের চাকরি দিয়েছেন এবং তারা নিজেরাও বিভিন্নভাবে বেনিফিটেড হয়েছেন অবৈধভাবে, তাদের শনাক্ত করতে আমরা কাজ করছি।’
তিনি বলেন, ‘আশা করি অল্পদিনের মধ্যে আমরা এ ধরনের অমুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পারবো এবং জাতিকেও জানাতে পারবো।’
এলাকায় জানে আমি মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু খাতা থেকে নাম কেটে দিয়েছে: বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও তাকে তালিকা থেকে আওয়ামী লীগ সরকার নাম বাদ দিয়েছে বলে সংসদে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলাম এ অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আপনি জানেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ আমরা একসঙ্গে সংসদে ছিলাম। আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও আপনার সঙ্গে সংসদে ছিলাম। এবার আমার তৃতীয়বার সংসদে আসা।’
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৬ সালের পর যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তখন আমার নাম মুক্তিযোদ্ধার খাতা থেকে কেটে দেয়। তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছি; বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যে গৌরব, সেটা থেকেও আমি বঞ্চিত। এলাকার সবাই আমাকে মুক্তিযোদ্ধা বলে জানে। আপনিও জানেন মাননীয় স্পিকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার যে হারানো গৌরব; আমি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি মেজর জলিল সাহেবের নেতৃত্বে নবম সেক্টরে; এ হারানো গৌরবটা আমি ফিরে পাবো কি না; সেটা জানতে চাই। আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব গচ্ছিত আছে, সবই দেখাবো ইনশা আল্লাহ। আমার মতো আরও অনেকে নিগৃহীত হয়েছেন, এখানেও আমাদের অনেক ভাই বললেন। সেটা আমাদের আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সেটা জানতে চাই।’
জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘এ প্রশ্নটিও আগের মতোই। তার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার কাছে কাগজপত্র যা আছে, সেটা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি অতীতে যারাই বিরোধীদলের রাজনীতি করতাম, তাদেরই হয়রানি করা হতো; সুনাম নষ্ট করা হতো। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। আমি সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, তার কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে অবশ্যই তিনি তা ফিরে পাবেন।’
