ফুটপাত দখলমুক্ত করতে রাজধানীতে অভিযান
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে গেছে সিটি কর্পোরেশন ও ডিএমপি। এরইমধ্যে রাজধানীর বনানী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে ফুটপাত দখলে রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কয়েকটি হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বনানী-কাকলী অংশে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। কোথাও খাবারের হোটেলের রান্নার সরঞ্জাম, কোথাও গ্রিল মেশিন, আবার কোথাও আসবাবপত্র ও ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি ফুটপাতজুড়ে রাখা হয়েছে। এসব সরিয়ে দিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ডিএমপির সঙ্গে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাস্তার ওপর পাওয়া কিছু মালামাল জব্দ ও অপসারণ করা হয়। কয়েকটি স্থানে তাৎক্ষণিক ভাঙচুরের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে। ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযান শেষে ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মূল উদ্দেশ শাস্তি দেওয়া নয়, বরং মানুষকে সচেতন করা। ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। দোকানের বাইরের অংশ ব্যবহার করে ফুটপাত দখল করলে মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অনেকে তা মেনে নিলেও যারা মানেননি, তাদের বিরুদ্ধে এ বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এ দিনের অভিযানে ছয়-সাতটি দোকানকে প্রায় ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ডিসি মিজান আরও বলেন, এই অভিযান একদিনের নয়, ধারাবাহিকভাবে চলবে। আমরা এক সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছি। যদি আবার কেউ ফুটপাত দখল করে, তাহলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে- জেল ও জরিমানার আওতায় আনা হবে। এদিকে ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগামী কয়েক দিন ধরে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মগবাজার থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত ফুটপাত-সড়কে উচ্ছেদ অভিযান : পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করাসহ সড়কে যানজট এড়াতে ফুটপাত-রাস্তার অবৈধ দোকানপাট-স্থাপনা উচ্ছেদে রাজধানীর মগবাজার থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফুটপাত-রাস্তা দখল করে থাকা ছোট ছোট দোকান উচ্ছেদ করা হয়। মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া সড়কের পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। দোকানের সামনের ফুটপাতে বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখায় কয়েকজন দোকানিতে জরিমানা করা হয়।
ফুটপাতে সিমেন্টের তৈরি বর্গাকার প্রতিবন্ধকতা রেখে পথচারী চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারীদের শেষবারের মতো সতর্ক করে দেয় পুলিশ। এই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ বলেন, গত ২৩ মার্চ গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। গণবিজ্ঞপ্তি পেয়ে অনেকে ফুটপাত-সড়ক থেকে সরে গেছেন। এরপরও যারা রয়ে গেছেন, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। কাউকে কাউকে জরিমানাও করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কাজী রোমানা নাসরিন জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুটপাত-রাস্তা দখল করে থাকা দোকানপাট উচ্ছেদ শুরু করেছেন তারা। এই উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানের কিছুদিন পর আবার দোকানপাট বসে যায়, এ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে রোমানা নাসরিন বলেন, ‘আমরা আবার উচ্ছেদ করব। এটি চলমান থাকবে।’
ফুটপাতের কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ, বাকিদের সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তা : রাজধানীর ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার সকাল থেকে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ফয়সাল। অভিযান শেষে তিনি বলেন, জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ব্যবসায়ীদের সরতে অনুরোধ করা হয়েছে, কিন্তু আবারও ফুটপাত দখল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এখানকার ফুটপাতে যাদের দোকান রয়েছে, সেসবের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগার জড়িত। আমরা আজকের অভিযানে তাদের বুঝিয়েছি, আপনারা এখান থেকে চলে যান। আগামীতে এই অভিযান চলমান থাকবে এবং প্রতিনিয়তই কেউ না কেউ তদারকিতে থাকবে। দ্বিতীয়বারের মতো কেউ যদি এখানে দোকান দিয়ে বসে, তাহলে আমরা একশনে যাবো, জরিমানা করবো ও মালামাল জব্দ করবো। তিনি আরও বলেন, আমাদের মোটিভ তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া। যারা এক্সটেনশন করেছে, আমরা সেগুলো উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু কেউ যদি আবার এক্সটেনশন করে, আমরা সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেব। উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ১০টায় ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোড, ফার্মগেট মোড়ে ফুটপাতে অবৈধভাবেই দখল করে ব্যাবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদ অভিযানে নামে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
