সুসংবাদ প্রতিদিন
কাঁচামরিচ চাষে স্বল্প খরচে লাভ বেশি
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

বাহুবল উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের কৃষক তৈয়ব আলী কাঁচামরিচ চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনি ৩৩ শতক জমিতে বিজলী প্লাস জাতের মরিচের প্রদর্শনী চাষ করে এরইমধ্যে এলাকাজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামীমুল হক শামীমের পরামর্শে এ আর মালিক সিড কোম্পানির উন্নতমানের বীজ ব্যবহার করে কৃষক মো. তৈয়ব আলী এই চাষাবাদ শুরু করেন। চাষের ক্ষেত্রে তিনি মালচিং পেপার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, যা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জমিতে সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে যায়, আগাছার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমে যায়। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষক তৈয়ব আলী জানান, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ, সার, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। কিন্তু উৎপাদিত কাঁচামরিচ বিক্রি করে তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন, যা তার জন্য বড় ধরনের সাফল্য।
তিনি আরও জানান, রমজান মাসে মরিচের চাহিদা বেশি থাকায় তিনি প্রতি কেজি মরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাজারে দাম কিছুটা কমে এলেও প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এখনও লাভজনক বলে তিনি মনে করেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মরিচ প্রদর্শনী চাষ করেন কৃষক তৈয়ব আলী। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন করলে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকরা অধিক লাভবান হন। মালচিং পেপার ব্যবহার বিশেষ করে সবজি চাষে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। এখানে কাঁচামরিচ চাষ করে ওই কৃষক সফলতা পেয়েছেন। তার ন্যায় অন্যান্য কৃষকও মরিচ চাষে আগ্রহী হয়েছে।
এলাকাবাসী ও অন্যান্য কৃষকদের মতে, তৈয়ব আলীর এই উদ্যোগ এলাকার কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার জমি পরিদর্শন করছেন এবং এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে।
