প্যানিক বায়িং নিয়ন্ত্রণে চালু হচ্ছে ডিজিটাল অ্যাপ

জানালেন ডা. জাহেদ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দূর করা এবং ‘প্যানিক বায়িং’ (আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনা) নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুতই একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্যানিক বায়িং নিয়ন্ত্রণে সরকার কী করছে- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতি বজায় রাখতে এবং ‘প্যানিক বায়িং’ নিয়ন্ত্রণে সরকার একটি বিশেষ ডিজিটাল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের একটি নির্দিষ্টসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। ফলে কে কতটুকু জ্বালানি সংগ্রহ করছেন তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ থাকবে না।

উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’তে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি একটি বড় ঝুঁকি। তাই সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ডলার ব্যবহারের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি ক্রয়ের ব্যয় সব সময়ই বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে শুধু অভ্যন্তরীণভাবে সরকারের ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমে; কিন্তু জাতীয় রিজার্ভের ওপর থেকে চাপ কমে না। তাই ভর্তুকি ও রিজার্ভকে দুটি ভিন্ন বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার ওপর তিনি জোর দেন।

দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত ভর্তুকি জাতীয় অর্থনীতির সক্ষমতা কমিয়ে দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি হঠাৎ কমিয়ে দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত।’ জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত (যেমন: দোকানপাট ও অফিস সময় পরিবর্তন) নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এছাড়া, সড়ক নিরাপত্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশাগুলোকে দ্রুত নিয়মের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।