এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যেক কক্ষে সিসি ক্যামেরা চালু বাধ্যতামূলক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএসসি পরীক্ষার সময় প্রত্যেক কক্ষে সিসি ক্যামেরা চালু রাখা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্নভাবে নজরদারি করা হবে। লোডশেডিং হতে পারে; টেকনিক্যাল ফল্ট হতে পারে। বিদ্যুৎ নেই অজুহাতে ক্যামেরা বন্ধ রাখা যাবে না। এজন্য পরীক্ষার কেন্দ্রে আইপিএস রাখতে হবে। তিনি জানান, কোনো অজুহাতে ক্যামেরা বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিসি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেছে, এমন অজুহাত কেউ দিতে পারবে না। তার জন্য আইপিএস রাখতে হবে। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার হল পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকল বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। নকল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকলের জন্য দায়ী সরকার, আমাদের শিক্ষকেরা নয়। শিক্ষকরাই যদি দায়ী হতেন, তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও নকল হতো; তা তো হয়নি। নকল হয়েছে এর পরবর্তী সরকারের আমলে। হেলিকপ্টারে আর ঘুরবেন না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পৃথিবা আজ হাতের মুঠোয়, উই আর লিভিং ইন দ্য গ্লোবাল ভিলেজ। একটি মোবাইল ফোন যদি পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিযে আসতে পারে, তাহলে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরতে হবে কেন? যত সমালোচনাই হোক, নকলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, যেটা আমার দায়িত্ব, সেটা সম্ভব হতেই হবে। আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো। আপনারা আপনাদেরটা করবেন। সব রকম উপায়ে নকল প্রতিরোধ করতেই হবে। আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা করেন মন্ত্রী। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। এতে বিভিন্ন বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
ঘাড় ঘোরালেই বহিষ্কার করা হবে, এটা সঠিক নয় : এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কড়াকড়ি আরোপ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ধারাবাহিক বক্তব্য দিচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে তার কথা বলে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তেমন একটি গুজব হলো- পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা ঘাড় পর্যন্ত ঘোরাতে পারবে না। এ তথ্য ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা নাকি ঘাড় ঘোরাতে দেবো না! এটা কে বলেছে, কোথা থেকে এলো? আরে ঘাড় ঘোরালেই তো নকল হয় না। অনেক সময় একটানা বসে থাকলে, পড়াশোনা করলে আমারা ঘাড় নড়াচড়া করি না? যারা নকল করবে, তা তো আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরাতে সব রেকর্ড থাকবে। সেটা আমরা দেখবো। ঘাড় ঘোরালেই বহিষ্কার করা হবে, এটা সঠিক নয়।’
নকল প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘নকলের জন্য দায়ী সরকার, আমাদের শিক্ষকরা নন। শিক্ষকরাই যদি দায়ী হতেন, তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও নকল হতো, তা তো হয়নি। নকল হয়েছে পরবর্তী সরকারের আমলে।’ যত সমালোচনাই হোক, নকলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যেট আমার দায়িত্ব, সেটা সম্ভব হতেই হবে। আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো। আপনারা আপনাদেরটা করবেন। সব রকম উপায়ে নকল প্রতিরোধ করতেই হবে।’ পরীক্ষার কেন্দ্রে কেন্দ্রে হেলিকপ্টারে আর ঘুরবেন না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয়। উই আর লিভিং ইন দ্য গ্লোবাল ভিলেজ। একটি মোবাইল ফোন যদি পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারে, তাহলে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরতে হবে কেন?’ সিসিটিভি ক্যামেরা অবশ্যই বসাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে ক্লাসরুম পরিদর্শনে যেতে হবে কেন? প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় যদি সিসি ক্যামেরা থাকে, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বসে যখন ইচ্ছে হবে, দেখতে পারবো। শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন কি না, ছাত্ররা ক্লাসে আছে কি না, তা আমি রুমে বসে মনিটরিং করবো।’
এসএসসি পরীক্ষার হল পরিদর্শনে এমপিরা যেতে পারবেন না : আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার হল পরিদর্শনে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা যেতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, কয়েকদিন পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এসব পরীক্ষায় হল পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা কাউকে নিয়ে হল পরিদর্শনে যেতে পারবেন না। এ সুযোগ নেই। পরীক্ষার্থীদের বিরক্ত করা যাবে না। সেটা কেউ করতে পারবেন না। কেন্দ্রের সচিবদের এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। এতে বিভিন্ন বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
