কারামুক্ত হলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় করা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল রোববার আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত। ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় মামলার পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আসামির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন। শিরীন শারমিনের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী নাজিয়া কবির, এ বি এম হামিদুল মিসবাহ ও ইমরুল কায়সার। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজিয়া কবির বলেন, ‘শিরীন শারমিনের স্বাস্থ্যগত কারণ ও তাঁর ক্লিন ইমেজ বিবেচনায় আমরা জামিন আবেদন করি। আদালত আমাদের দাখিল করা যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে জামিন মঞ্জুর করেছেন।’

অপর আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ বলেন, ‘এ পর্যন্ত অন্য কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই, রেকর্ডেও নেই। সে ক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী, তিনি জামিন পাবেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আমরা জামিনের বিরোধিতা করে বলি, মামলাটি তদন্তাধীন। আসামি জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন মঞ্জুর করেন।’

ডিবি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। এ সময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করে। এতে আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল ফাহিমের বাঁ চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। তিনি গত বছরের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা করেন।

মামলায় আশরাফুল অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশে পুলিশ সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ৩ নম্বর আসামি। শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বাকি তিনটি মামলা তদন্তাধীন বলে ডিবি জানিয়েছে।

দুপুরে জামিন, বিকেলে কারামুক্ত হলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী:

হত্যা চেষ্টা মামলায় দুপুরে জামিন পাওয়ার বিকেলে কারামুক্ত হলেন সাবেক স্পিকার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

গতকাল রোববার বিকেলে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার বলেন, কারাগারে জামিননামা পৌঁছানোর পরই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী একটু আগে (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) তাকে (সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী) রিলিজ (মুক্ত) করা হয়েছে। পরে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধানমন্ডিস্থ তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওইদিনই তাকে জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা চেষ্টা ও চারটি হত্যা মামলা রয়েছে। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছিলেন, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় শিরীন শারমিনের কারামুক্তিতে বাধা নেই।