
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক রূপে গড়ে তুলতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এই কৃষক কার্ড। এই উদ্যোগ কৃষিকে আরও লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় পরিণত করবে। এছাড়া জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষককে একটি সার্বজনীন ব্যবহারযোগা ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র দেওয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করা। তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা গঠন করা। তিনি বলেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সারের অপচয় কমবে, উৎপাদন পরিকল্পনা উন্নত হবে এবং কৃষকের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কৃষি একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এই কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদাকে আরও মহিমান্বিত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ সেবার বাইরেও সময়োপযোগী নতুন নতুন সেবা যুক্ত হবে। কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ কৃষকের হাতে। আমাদের কৃষিজমির উর্বরতা, মাটির গুণাগুণ ও ফসলের বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি স্মার্ট ডাটাবেজের আওতায় আসবে। সারের অপচয় হ্রাস, চাহিদা মাফিক ফসল উৎপাদন সর্বোপরি কৃষকের ক্ষতি শূণ্যের কোটায় আনতে এ কার্ড সহায়ক হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন– প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং রাশেদ তিতুমীর।